


রূপাঞ্জনা দত্ত, লন্ডন: আর্থিক সাক্ষরতা তৈরি থেকে শুরু করে নাগরিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচার। একাধিক মানবিক কাজে নিয়মিত নেতৃত্ব দিয়ে চলেছে রেনিয়া গঙ্গোপাধ্যায়। এই অসামান্য প্রয়াসের জন্য রোটারি ইয়ং সিটিজেন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ পেল বার্মিংহামের এই বঙ্গতনয়া। চেকইটআউট নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা লন্ডনের হেনরিয়েটা বার্নেট স্কুলের এই কৃতী পড়ুয়া। সংস্থার নেতৃত্বে রয়েছে ২৫ জনের বেশি উয়ুথ অ্যাম্বাসাডর। তাদের সাহায্যে একাধিক কর্মশালা ও প্রচারমূলক কর্মসূচি নিয়ে থাকে চেকইটআউট। উদ্দেশ্য একটাই, আগামী প্রজন্মকে বাজেট থেকে শুরু করে বিভিন্ন আর্থিক বিষয়ে দক্ষ করে তোলা। ব্রিটেনের পাশাপাশি ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়মিত কাজ করছে রেনিয়াদের সংস্থা। এর ফলে দৈনন্দিন খরচ নিয়ে আরও সচেতন হওয়ার সুযোগ পায় ব্রিটেনের এশীয় বংশোদ্ভূত পরিবারগুলি। একইসঙ্গে বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য একাধিক কর্মসূচির আয়োজন করে থাকে চেকইটআউট। রেনিয়ার কথায়, ‘বহু পড়ুয়া স্কুলের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে। কিন্তু টাকার সদ্ব্যবহার করতে তাদের শেখানো হয় না। যুব সমাজের প্রত্যেক সদস্যের কাছে সহজেই সেটা পৌঁছে দিতে চাই। এর ফলে ওরা বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।’
অর্থনীতির পাশাপাশি জাতি বিদ্বেষ সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে চলেছে রেনিয়া। বর্তমানে বার্মিংহাম ইয়ুথ সিটি বোর্ডের লিড অব ইয়ুথ কানেক্ট পদে রয়েছে ১৭ বছর বয়সি এই তরুণী। জাতীয় বিচারক মণ্ডলীর সদস্য হিসাবে ব্রিটেনের বহু পড়ুয়াকে তথ্য ভিত্তিক আলোচনার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে রেনিয়া। এর সঙ্গে প্রজেক্ট ইস্পর্শ নামে এক বিশেষ অভিযান শুরু করেছে এই বঙ্গতনয়া। বর্তমানে হরিদ্বারে লেপ্রসি আক্রান্তদের কলোনিতে ডিজিটাল লার্নিং সেন্টারের জন্য তহবিল সংগ্রহ করছে রেনিয়া। প্রন্তিক মানুষদের মূলস্রোতে নিয়ে আসার লক্ষ্যেই তার এই অভিনব প্রয়াস। ৫ হাজার পাউন্ডের মধ্যে ৩ হাজার ১০০ পাউন্ড ইতিমধ্যে সংগ্রহ করা হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রেনিয়ার পুরস্কারের টাকা। তার কথায়, ‘জ্ঞান বিনিয়োগের সবথেকে শক্তিশালী মাধ্যম। আশা করি নবীন প্রজন্ম তা বুঝতে পারবে। আমি শুধু মানুষকে এটা বোঝাতে চাই যে সামাজিক প্রেক্ষাপট কখনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।’