


হ্যানয়: বিভীষিকার আইল্যান্ড-হপিং ট্রিপ! শনিবার ভিয়েতনামের বৃহত্তম দ্বীপ ফু কুওয়ের কাছে মাঝসমুদ্রে স্পিডবোট ডুবে মৃত্যু হয়েছে ১৫ ভারতীয় পর্যটকের। মৃতদের মধ্যে দু’জন মহিলা। ওশান পেয়ার আইল্যান্ড কোম্পানি পরিচালিত দুর্ঘটনাগ্রস্ত স্পিডবোটে ৩২ ভারতীয় ও চার কর্মী ছিলেন। ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সময় দুপুর ১টা নাগাদ হন মে রুট দ্বীপ (ফু কুওক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে) থেকে আন থোই বন্দরে পর্যটকদের নিয়ে রওনা হয়েছিল ওই স্পিডবোট। মাঝপথে হন মে রুট নগোয়াই থেকে ৪০০ মিটার দূরে সেটি উলটে যায়। ফু কুওক অর্থনৈতিক অঞ্চলের আধিকারিকরা এই তথ্য জানিয়েছেন ভিয়েতনামের নিউজ পোর্টাল ভিএনএক্সপ্রেস ইন্টারন্যাশনালকে। জানা গিয়েছে, আশপাশে থাকা পর্যটক বোঝাই অন্য বোটগুলি সাহায্যের জন্য দ্রুত দুর্ঘটনাগ্রস্ত স্পিডবোটটির কাছে পৌঁছে যায়। পরে উদ্ধারের কাজে যোগ দেয় বর্ডার গার্ডস, নেভি, কোস্ট গার্ড ও অন্যান্য বাহিনী। দুর্ঘটনার পর ভিয়েতনামের ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, হো চি মিন সিটি ও হ্যানয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। যোগাযোগের নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে দূতাবাসের তরফে।
উদ্ধারের কাজে অংশ নেওয়া একটি নৌকার মালিক বলেন, আমরা মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছিলাম। উলটে যাওয়া স্পিডবোটের নীচে অনেকে আটকে পড়ায় দ্রুত উদ্ধারের পথে সমস্যা তৈরি হয়। মাত্র কয়েকজনকে সজাগ অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। দুর্ঘটনার সময় ঝড়-বৃষ্টি কিছুই ছিল না। অন্য ট্যুরিস্ট বোটগুলিও ইতিউতি ঘুরে বেড়াচ্ছিল। তবে সেই সময় সমুদ্র কিছুটা উত্তাল ছিল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন থোই বর্ডার গার্ড ৩৫ জন অফিসার ও সেনা সহ দু’টি ভেসেল পাঠিয়েছিল উদ্ধারের কাজে। দুপুরের মধ্যেই দুর্ঘটনাগ্রস্ত স্পিডবোটে থাকা ৩৬ জনকে উপকূলে ফিরিয়ে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে ২১ জন জীবিত থাকলেও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ভারতীয় দূতাবাসের তরফে এক্স পোস্টে বলা হয়েছে, ভিয়েতনামে ফু কুওক দ্বীপের কাছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বহু ভারতীয় পর্যটক সহ একটি নৌকা ডুবে গিয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান ও সাহায্যের জন্য হো চি মিন সিটির কনস্যুলেট জেনারেল অব ইন্ডিয়া ও হ্যানয়ে ভারতীয় দূতাবাসে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।