


প্যারিস: আরিনা সাবালেঙ্কার ব্যাকহ্যান্ড রিটার্ন বাইরে যেতেই দু’হাত আকাশে ছুড়ে দিলেন কোকো গফ। পরক্ষণেই ক্লান্তি ঝরে পড়া শরীর লুটিয়ে দিলেন রোলাঁ গারোর কোর্টে। এরপর লাল সুরকির ধুলো মেখে উঠে দাঁড়ালেন ফরাসি ওপেনের নতুন রানি। চোখের কোণে চিকচিকে জল। পেরেছেন, তিনি পেরেছেন। তিন সেটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে সাবালেঙ্কাকে টেক্কা দিলেন মার্কিনী তরুণী। স্পোর্টিং স্পিরিটের নিদর্শন দেখিয়ে গফকে অভিনন্দন জানান বিশ্বের ১ নম্বর সাবালেঙ্কা। বেলারুশের তারকার চোখেও জল। তাতে মিশে ব্যর্থতার হাহাকার। ম্যাচের পর গলা ধরে আসছিল তাঁর। কোনওরকমে বললেন, ‘গফকে অভিনন্দন। যোগ্য হিসাবেই খেতাব জিতেছে। ফাইনালে সেরাটা মেলে ধরতে আমি ব্যর্থ। তাই খুবই হতাশ। যাইহোক, ব্যর্থতা কাটিয়ে কামব্যাকের চেষ্টা করতেই হবে।’ উল্লেখ্য, গফের এটি দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়। ২০২৩ সালে সাবালেঙ্কাকে হারিয়েই ইউএস ওপেন জিতেছিলেন তিনি। ফরাসি ওপেনও চ্যাম্পিয়ন হলেন সেই চেনা প্রতিদ্বন্দ্বীকে বশ মানিয়ে।
সাবালেঙ্কার ট্রফি ক্যাবিনেটে দু’টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম থাকলেও ফরাসি ওপেনের স্বাদ পাননি কখনও। প্রতিপক্ষ গফেরও একই দশা। প্রথমবার ফরাসি ওপেনের খেতাব জিততে মরিয়া ছিলেন দু’জনেই। তিন সেটের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে গফের অনুকূলে ম্যাচের ফল ৬-৭, ৬-২, ৬-৪। প্রথম সেটে পিছিয়ে পড়েও অসাধারণ প্রত্যাবর্তন। প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করলেন দর্শকরা। চ্যাম্পিয়ন গফ রীতিমতো উচ্ছ্বসিত। ম্যাচের পর গ্যালারিতে ছুটলেন কোচিং টিমের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে। তাঁর মন্তব্য, ‘অসাধারণ অনুভূতি। সবাই যেভাবে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে তার তুলনা নেই। সবচেয়ে বড় কথা, সারাক্ষণ উৎসাহ দিয়েছেন দর্শকরা। তাঁদেরও ধন্যবাদ জানাতে চাই।’ আহ্লাদে জড়িয়ে ধরলেন গ্যালারিতে হাজির মা’কে। হাততালির শব্দে তখন কান পাতা দায়। উল্লেখ্য,এক দশক পর কোনও আমেরিকান ফরাসি ওপেনের মহিলা খেতাব জিতলেন। সেরেনা উইলিয়ামস ও কোকো গফের শিরোপা জয়ের মাঝে কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ১০ বছর। ২০২২ সালে আইফেল টাওয়ারের শহরে ফাইনালে পৌঁছেছিলেন গফ। সেবার শেষরক্ষা হয়নি। স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ইগা সুইয়াটেকের কাছে। ভুল শুধরে ক্লে-কোর্টে এবার সেরাটা উজাড় করে দিলেন তিনি।
সাবালেঙ্কা পাওয়ার টেনিসে বিশ্বাসী। এদিন প্রথম সেট ছিনিয়ে নেওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন ট্রফি উঠতে চলেছে তাঁর হাতে। কিন্তু মোক্ষম সময়ে আনফোর্সড এররের মাসুল দিলেন বেলারুশের তারকা। বিশ্বের ১ নম্বরের কাছে যা মোটেও প্রত্যাশিত নয়। পাশাপাশি তৃতীয় সেটে দু’বার সাবালেঙ্কার সার্ভিস ভাঙেন কোকো গফ। নিজের ভুলে ম্যাচ থেকে ক্রমশ দূরে সরলেন সাবালেঙ্কা। এমনকী, মেজাজ হারিয়ে চিৎকার করতে দেখা যায় তাঁকে। তুলনায় প্রতিপক্ষ ছিলেন অনেক শান্ত। নার্ভের উপর অবিশ্বাস্য দখল। দ্বিতীয় বাছাই মার্কিনী কন্যার প্রতিটা শটে ঈর্ষণীয় নিয়ন্ত্রণ। আর তাতেই টেক্কা দিলেন ফেভারিট প্রতিপক্ষকে। র্যালির পাশাপাশি নেটের সামনে নিঃশব্দে উঠে এসে বাজিমাত করলেন। দু’বার ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়েও শেষরক্ষা হয়নি সাবালেঙ্কার। দিনটা যে মোটেও তাঁর ছিল না!