


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ায় কাশ ফুলের আড়ালে রমরমিয়ে বালি পাচার চলছে। বর্তমানে নদনদীর চরে কাশফুল ফুটেছে। তার আড়ালেই বাঁকুড়া শহর থেকে শালতোড়া, সর্বত্র দেদার বালি উত্তোলন চলছে। অথচ বর্তমানে জেলা ভূমি দপ্তরের নির্দেশে বালি তোলা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। গত এক সপ্তাহে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ বেআইনি বালি পাচারে যুক্ত থাকার অভিযোগে মোট সাত জনকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার রাতে গঙ্গাজলঘাটি থানার পুলিশ বালি বোঝাই তিনটি ট্রাক আটক করে। ট্রাক চালকরা বালি পরিবহণের বৈধ চালান দেখাতে পারেনি। শালতোড়া থানা এলাকায় দামোদর নদ থেকে বালি তোলার পর তা বিনা চালানে পাচার হচ্ছিল বলে ট্রাক চালকরা পুলিশকে জানিয়েছে। বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার পিভিজি সতীশ বলেন, বালির ট্রাক আটকের ঘটনায় গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের ভূমি সংস্কার আধিকারিককে অভিযোগ জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। সেই অভিযোগ জমা পড়লে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু হবে। বেআইনি বালি পাচার বরদাস্ত করা হবে না।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই বাঁকুড়ায় বেআইনি বালির কারবার চলছে। এর আগেও বাঁকুড়া শহরের সতীঘাট, পলাশতলা, রাজগ্রাম, ধলডাঙ্গা এলাকায় গন্ধেশ্বরী নদী ও দ্বারকেশ্বর নদ থেকে দেদার বালি তুলে পাচার চলছিল। রাজ্যে পালাবদলের পরেও তা অব্যাহত বলে অভিযোগ। যদিও পুলিশের দাবি, ধারাবাহিক অভিযানের চাপে বালি পাচারকারীরা পিছু হঠেছে। বাঁকুড়া সদর থানার পাশাপাশি শালতোড়াতেও বেআইনি বালি কারবার রমরমিয়ে চলছে বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার রাতে পরপর বালি ভরতি ট্রাক দুর্লভপুর-বড়জোড়া শিল্প করিডর হয়ে ভিন জেলার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। গঙ্গাজলঘাটি থানার ঘনশ্যমপুর এলাকায় পুলিশ ট্রাকগুলি বাজেয়াপ্ত করে।
এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, বর্ষার কারণে বর্তমানে বৈধ খাদান বন্ধ থাকায় বালির দাম বেশি রয়েছে। এখন অল্প বালি পাচার করেই মাফিয়ারা ফুলেফেঁপে উঠছে। সেই কারণে নদনদীর জল সামান্য কমলেই বালি তোলার হিড়িক পড়ছে। আমাদের চোখে ধুলো দিয়ে রাতের অন্ধকারে ওই কারবার চলছে।