


সংবাদদাতা, বেলদা: নাতিকে বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রেখেছিলেন দাদু। প্রবল স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে কোনওরকমে ছোট্ট নাতিকে নিরাপদে নদীর পাড়ে তুলে দিলেও শেষরক্ষা হল না। নাতিকে বাঁচানোর পরই কেলেঘাই নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে গেলেন ৬০ বছরের সূর্য কোটাল। নারায়ণগড়ের আমডিহা এলাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে ছড়িয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোক।
জানা গিয়েছে, আমডিহা এলাকায় কেলেঘাই নদীর উপর পারাপারের জন্য থাকা বাঁশের সাঁকোটি বর্ষার জলে ভেসে গিয়েছে। ফলে বর্তমানে ঝুঁকি নিয়েই এক গলা জলের মধ্যে দিয়ে নদী পারাপার করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
বুধবার দুপুরে স্ত্রী চায়না কোটাল ও নাতি সঞ্জয় নায়েককে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন সূর্য কোটাল। তড়িঘড়ি বাড়ি ফেরার সময় নাতিকে সঙ্গে নিয়ে নদীতে নামেন তিনি। নদীতে তখন এক গলা জল। কোনওরকমে এগোচ্ছিলেন দু’জনে। কিন্তু মাঝ নদীতে পৌঁছতেই আচমকা প্রবল স্রোতের টানে বিপাকে পড়েন দাদু ও নাতি।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই নাতিকে আঁকড়ে ধরে নিরাপদে পাড়ে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন সূর্য। শেষ পর্যন্ত নাতিকে নিরাপদে পাড়ে তুলে দিতে সক্ষম হন তিনি। কিন্তু এরপরই ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা। নাতিকে পাড়ে তুলে দেওয়ার পর নিজে আর নদী থেকে উঠতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যেই কেলেঘাইয়ের প্রবল স্রোত তাঁকে টেনে নিয়ে যায়।
চোখের সামনে দাদুকে জলের তোড়ে ভেসে যেতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে পরিবার ও স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নারায়ণগড় থানার পুলিশ। নিখোঁজ সূর্য কোটালের সন্ধানে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে বিপর্যয় মোকাবেলা দলের কর্মীদেরও। স্পিডবোট নিয়ে চলছে তল্লাশি। প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দফায় দফায় বোট নামিয়ে নদীতে তল্লাশি চালানো হয়। নদীর উপরে স্থায়ী কংক্রিটের সেতু নির্মাণের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।