


নিজস্ব প্রতিনিধি, মুম্বই: ভাগ্যিস, পকেটে আড়াইশোর বেশি পুঁজি ছিল! নাহলে যে আরব সাগরের পাড়ে আরও একবার স্বপ্নভঙ্গ নিশ্চিত ছিল। ম্যাচ শেষে ওয়াংখেড়েতে দাঁড়িয়ে যুজবেন্দ্র চাহালকে সঙ্গে নিয়ে ক্যামেরার সামনে যতই হরভজন সিং ভাংড়া নাচুন, ক্রিকেটপ্রেমীদের কিন্তু জিভের তলায় সরবিট্রেট রাখার পরিস্থিতি হয়ে উঠেছিল। স্বস্তির তো নয়ই, এই জয়েও থাকল অনেক উদ্বেগ। অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরিতে জেকব বেথেল প্রায় জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছিলেন ইংল্যান্ডকে। আর তাঁর মরিয়া লড়াইকে সাফল্যের রূপ দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন বরুণরা!
ক্যাপ্টেন সূর্যকুমার যাদব তো বলেই ফেললেন, ‘ভীষণ নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম। কেউ যদি আমার হার্টবিট পরীক্ষা করে তো ১৬০-১৭৫ নিশ্চিত পাবে। তবে ফাইনালে উঠে অবিশ্বাস্য অনুভূতি হচ্ছে। দেশের মাঠে রবিবার বিশ্বকাপ জেতার জন্য নামব। এটা দুর্দান্ত মুহূর্ত।’ পরপর দুটো মরণবাঁচন ম্যাচে রক্ষাকর্তা হয়ে ওঠা সঞ্জু স্যামসনের গলায় আবার যশপ্রীত বুমরাহর প্রশংসা। সেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে তিনি বললেন, ‘এখানে ২৫০ রানও যথেষ্ট দেখাচ্ছিল না। আমার মতে, বুমরাহই ম্যাচের সেরার পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। এই জয়ের জন্য কৃতিত্ব ওরই প্রাপ্য। ওর মতো বোলার প্রজন্মে একজনই আসে।’ নিজের ব্যাটিং নিয়ে বিনয়ী শোনাল সঞ্জুকে, ‘গত ম্যাচের ছন্দেই ছিলাম। সেটা ধরে রাখা ছিল লক্ষ্য। তবে শতরান হারানোর জন্য কোনও দুঃখ নেই। সেঞ্চুরি করা যায় না, ওটা হয়ে যায়। দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরেছি, এতেই তৃপ্ত।’
ইংল্যান্ডের ক্যাপ্টেন হ্যারি ব্রুকের গলায় স্পষ্ট হতাশা, ‘বেথেল দেখিয়ে দিল ও কোন মাপের ব্যাটার। দুর্ভাগ্যের হল ও জেতাতে পারল না। তবে আমরা যেভাবে লড়েছি তার জন্য গর্বিত।’ ম্যাচের শেষে ইংল্যান্ড অধিনায়কের কাছে মজার সুরে সূর্য জানতে চান যে, তোমাদের বিরুদ্ধে সহজে জেতার জন্য আরও কত রান করা উচিত ছিল বল তো? হালকা সুরে হলেও টিম ইন্ডিয়ার উদ্বেগ লুকিয়ে এখানেই। এত রানেও যে এল রক্তচাপ বাড়ানো জয়। ফাইনালেও বরুণরা ডোবাবেন না তো!