


সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: ৬০ টাকার রিকশ ভাড়াতেই লুকিয়ে রয়েছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দু’কেটি টাকার অর্থ তছরুপের রহস্য। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যাঙ্কে যাওয়ার জন্য কাকে ৬০টাকা রিকশ ভাড়া দেওয়া হয়েছিল, সেটাই তদন্তকারীরা খুঁজছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি ঘেঁটে রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা জানতে পারে, ফিক্সড ডিপোজিটের কাগজ জমা করার জন্য ব্যাঙ্কে যেতে একজনকে ৬০টাকা রিকশ ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। সেদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হস্তান্তর শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যাঙ্ক বা অন্য কোথাও কাজে যাওয়ার জন্য পরিবহণ বিল হিসেবে ৬০টাকা দেওয়া হয়। কার নামে সেই টাকা বরাদ্দ হচ্ছে, সেটাও খাতায় উল্লেখ থাকে। কিন্তু, ফেব্রুয়ারি মাসে নির্দিষ্ট দিনে রিকশ ভাড়া কাকে দেওয়া হয়েছিল, তার উল্লেখ নেই। তাতেই সন্দেহ দানা বেঁধেছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, অর্থ বিভাগের দাপুটে এক কর্মী ফিক্সড ডিপোজিটের কাগজ ব্যাঙ্কে নিয়ে যাওয়ার জন্য একজনকে পাঠিয়েছিল। অর্থবিভাগের ওই কর্মীর খোঁজে সিআইডি হন্যে হয়ে ঘুরছে। আধিকারিকরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন, অর্থ বিভাগের ওই কর্মী ফেরার। তার শেষ লোকেশন নেপালে পাওয়া গিয়েছে। তাকে পাওয়া গেলে রাঘববোয়ালের কাছে পৌঁছন সহজ হবে। এক আধিকারিক বলেন, এখনও পর্যন্ত সিআইডি সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা কেউ সেই অর্থে ‘হেভিওয়েট’ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় দু’কোটি টাকা তছরুপ করা কোনও চুনোপুঁটির পক্ষে সম্ভব নয়। এর পিছনে তিন-চারজন বড় রাঘববোয়াল রয়েছে। তাদের এখনও গোয়েন্দারা জালে জড়াতে পারেনি। এই ঘটনায় এখন হিমশৈলের চূড়া দেখা গিয়েছে। কিন্তু, এখনও তার শিকড়ে পৌঁছন যায়নি বলে আধিকারিকরা মনে করছেন।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মাসের শেষ দিকেই এই কেসে বড় ‘ব্রেক থ্রু’ আসতে পারে। তার আগে পরিবহণ খরচ হিসেবে ৬০ টাকা নেওয়া ব্যক্তিকে তদন্তকারীরা চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তদন্তের ক্ষেত্রে তাঁর বয়ান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাতায়-কলমে তাকে একবার পরিবহণ খরচ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, সে বাস্তবে কতবার ব্যাঙ্কে গিয়েছিল, সেটা তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। ব্যাঙ্ক বা অন্য কোথাও কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার কাজ করতেন চার-পাঁচজন। তাদের মধ্যে একজনকে সিআইডি গ্রেপ্তার করেছিল। সেও অন্য একটি অ্যাকাউন্টে থাকা ফিক্সড ডিপোজিটের নথি ব্যাঙ্কে জমা দিতে গিয়েছিল। তারপরই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তবে, সেবার প্রতারকরা অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করতে পারেনি। ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মী গ্রেপ্তার হয়। কিন্তু, তার আগে যাঁরা ব্যাঙ্কে নথি জমা করার জন্য এসেছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করা যায়নি। তাঁদের দেওয়া নথি ব্যাঙ্কে জমা পড়ার পরই টাকা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে হস্তান্তর হয়। সেই কারণেই ৬০ টাকা ভাড়া নেওয়া ব্যক্তির খোঁজেই তদন্তকারীরা তল্লাশি শুরু করেছে।