


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বর্ষার মরশুম শুরু হতেই রাজ্য জুড়ে বাড়ছে কিটপতঙ্গবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব। ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার পাশাপাশি সম্প্রতি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘স্ক্রাব টাইফাস’। এটি ভেক্টর-বাহিত রোগ, যা মূলত অত্যন্ত ক্ষুদ্র এক ধরণের পোকার কামড়ে ছড়ায়। এই পোকাগুলি গবাদি পশু, গৃহপালিত পোষ্য এবং ঝোপঝাড় বা ঘন ঘাসের মধ্যে থাকে। যদিও সারা বছরই এই রোগের দেখা মেলে, তবে বর্ষাকালে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি বেড়ে যায়। মুর্শিদাবাদে সব থেকে বেশি শিশুরাই আক্রান্ত হচ্ছে স্ক্রাব টাইফাসে। গত এক মাসেই প্রায় ৪০ জন শিশু মেডিকেলে ভরতি হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের চেষ্টায় সবাই বিপদমুক্ত।
জানা গিয়েছে, এখন মেডিকেলের শিশু বিভাগে তিনটি শিশু স্ক্রাবে আক্রান্ত হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহেই আক্রান্ত হয়েছে সাতজন। গত আগস্ট মাসে ৩৫ জন শিশু স্ক্রাব টাইফাসে আক্রান্ত হয়ে মেডিকেলে ভরতি হয়েছিল।
বাচ্চা থেকে প্রবীণ—সব বয়সের মানুষই এই সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারেন। স্ক্রাব টাইফাসের প্রাথমিক লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর, গ্ল্যান্ড বা লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া এবং শরীরে র্যাশ বা লালচে দাগ দেখা দেওয়া।
রোগের সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে তা গুরুতর জটিলতার আকার নিতে পারে। জটিলতা হিসেবে রোগীর জন্ডিস, নিউমোনিয়া, শরীর ফুলে যাওয়া থেকে প্লেটলেট কমে যাওয়া এবং মস্তিষ্কেও সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। হতে পারে মেনিনজাইটিস ও এনসেফালাইটিস।
বহরমপুরের শিশু বিশেষজ্ঞ কৃশাণু দে বলেন, শিশুদের ক্ষেত্রে সামান্য জ্বরকেও অবহেলা করা উচিত নয়। বর্ষায় বাচ্চার জ্বর হলে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে সাধারণ প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিতে হবে এবং শরীর যাতে জলশূন্য না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। এই সময় প্রচুর পরিমাণে জল, ওআরএস ও তরল খাবার খাওয়ানো প্রয়োজন শিশুদের। তবে যদি জ্বরের সঙ্গে শরীর ফোলা, ত্বকে রাশ, গ্ল্যান্ড ফোলা লক্ষ্য করা যায় তবে অবিলম্বে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও অ্যান্টিবায়োটিক থেরাপি শুরু হলে স্ক্রাব টাইফাস পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য।
চিকিৎসকদের মতে, সচেতনতাই এই রোগ প্রতিরোধের চাবিকাঠি। বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখা, পোষা প্রাণীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বর্ষায় শিশুদের ফুল হাতা পোশাক পরিয়ে বাইরে খেলতে পাঠানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।