


সংবাদদাতা, ঘাটাল: প্রথম দফার ভোটে ঘাটাল মহকুমার বহু স্কুল, সমবায়, ডাকঘর সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা নিজেদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারলেন না। বুথে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, তাঁদের নামে পোস্টাল ব্যালট ইস্যু করা হয়ে গিয়েছে, তাই তাঁদের ইভিএমে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই যে ভোট দিতে পারেননি, তা স্বীকার করেছেন মহকুমা নির্বাচন দপ্তরের এক আধিকারিক। তবে যেহেতু এখনও ভোটগণনা হয়নি, তাই এর পর তাঁদের আর ভোট দেওয়ার সুযোগ মিলবে কি না, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি প্রশাসন। মহকুমা নির্বাচন দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নির্বাচন কমিশন স্থির করবে। কমিশনের নির্দেশ মতোই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
ভোটকর্মী হিসেবে নিয়মমতো বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি ও সরকার পোষিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের চিঠি দিয়ে প্রথম প্রশিক্ষণে ডাকা হয়েছিল। সেই সময়েই তাঁদের প্রত্যেককে পোস্টাল ভোট দেওয়ার জন্য ১২ এবং ১২এ ফর্ম দেওয়া হয়। ওই ফর্মগুলি পূরণ করে দিলেই পোস্টাল ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়। কর্মীরা ওই ফর্ম পূরণ করে জমা দিলে নির্বাচন দপ্তর সংশ্লিষ্ট কর্মীর নিজস্ব বুথের ভোটার তালিকায় সঙ্গে ‘পিবি’ (পোস্টাল ব্যালট) নামে পৃথক একটি লিস্ট তৈরি করে প্রিসাইডিং অফিসারদের হাতে দেয়।
মহকুমা নির্বাচন দপ্তর সূত্রে খবর, প্রথম পর্যায়ে যাঁদের প্রশিক্ষণের জন্য ডাকা হয়েছিল, তাঁদের প্রত্যেককে এবার ভোটের ডিউটি দেওয়া হয়নি। জেলা থেকে বিশেষ মাপকাঠি মেনে বেশ কিছু কর্মীকে ডিউটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে ঘাটাল মহকুমা নির্বাচন দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ভোটকর্মী হিসেবে নিয়োগপত্র পাওয়া এবং না পাওয়া প্রত্যেকের জন্যই প্রশাসনের পক্ষ থেকে শেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এবং মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। নির্বাচন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, যাঁদের ভোটের ডিউটি পড়েনি, তাঁদেরও বারংবার বলা হয়েছিল ডিউটি পড়ুক বা না পড়ুক, তাঁরা যেন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বা মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে ভোটটা দিয়ে যান। ওই কর্মীরা শেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে আসেননি এবং ভোট দিতেও যাননি। ২৩ তারিখে বুথে গিয়ে ভোট দিতে গেলে নামের পাশে ‘পিবি’ লেখা থাকার কারণে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
দাসপুরের বাসিন্দা শিক্ষক চিন্ময় চক্রবর্তী, শোভাগঞ্জের বাসিন্দা তথা ঘাটাল কলেজের শিক্ষাকর্মী কার্তিক বক্সী এবং কৈগেড়্যা বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ডলি মাইতিরা বলেন, ডিউটি না পড়লে মহকুমা শাসকের দপ্তরে গিয়ে ভোট দেওয়ার কথা তাঁদের বলা হয়নি। বলা হলে তাঁরা যথাসময়ে ভোট দিয়ে আসতেন। নির্বাচন দপ্তরের দাবি, ওই কথা বার বার বলা হয়েছে এবং প্রতিটি দলের প্রার্থীদেরও তা শুনিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এখন অস্বীকার করলে প্রশাসনের কিছু করার নেই।