


সিডনি: চোট স্রেফ গুরুতর নয়, প্রাণঘাতীও। বুকে রক্তক্ষরণের কারণে শ্রেয়স আয়ারকে তড়িঘড়ি আইসিইউতে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেন সিডনি হাসপাতালের চিকিৎসকরা। বিসিসিআইয়ের তরফ থেকে জানানো হয়, তিনি এখন স্থিতিশীল। অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়ার রিপোর্ট, তিনদিন আইসিইউতে থাকার পর সোমবার তাঁকে জেনারেল বেডে ট্রান্সফার করা হয়েছে। আরও কয়েকদিন তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে ভারতের ওয়ান ডে দলের সহ-অধিনায়ককে। এই অবস্থায় ছেলের পাশে থাকতে বোর্ডের উদ্যোগে জরুরি ভিত্তিতে সিডনি উড়ে যাচ্ছেন শ্রেয়সের বাবা-মা।
বৃহস্পতিবার ভারত-অস্ট্রেলিয়ার ওডিআই সিরিজের শেষ ম্যাচটি ছিল সিডনিতে। সেই ম্যাচে অ্যালেক্স কেরির ক্যাচ ধরতে গিয়ে বুকে চোট পান শ্রেয়স। যন্ত্রণাকাতর মুখে ড্রেসিং রুমে ফেরার পর আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। প্রথমে মনে করা হচ্ছিল, পাঁজরের চোট। কিন্তু রক্তচাপ দ্রুত কমে আসতে দেখে আর কালবিলম্ব করেননি ভারতীয় দলের চিকিৎসকরা। সিডনির এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। মেডিকেল টেস্টের রিপোর্টে দেখা যায় ‘স্প্লিন ইনজুরি’ হয়েছে। ঠিক যেমনটা হয়েছিল ১৯৮২ সালে ‘কুলি’ সিনেমার শ্যুটিংয়ে অমিতাভ বচ্চনের। পুনীত ইশারের সঙ্গে অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয় করার সময় গুরুতর চোট পান বিগ বি। ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান তিনি। এরপর কয়েক মাস হাসপাতালে যমে-মানুষে টানাটানি হওয়ার পর বাড়ি ফেরেন অমিতাভ।
ফুসফুসের দূষিত রক্ত শরীর থেকে বের করাই স্প্লিনের কাজ। বাংলায় বলা হয় প্লীহা বা পিলে। এমন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ থেকে রক্তক্ষরণ প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই শ্রেয়সকে দ্রুত আইসিইউতে ভর্তি করেন চিকিৎসকরা। গঠন করা হয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল। তিনদিন উদ্বেগজনক অবস্থায় কাটানোর পর তাঁর জেনারেল বেডে ট্রান্সফার কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে ভক্তদের। তবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে শ্রেয়স কবে দেশে ফিরবেন, তা এখনই বলা কঠিন। কারণ চিকিৎকসরা জানিয়েছেন, অন্তত দু’সপ্তাহ দীর্ঘ বিমানযাত্রার ধকল নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, সিরিজ শেষে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, লোকেশ রাহুলরা। টি-২০ খেলতে বাকি দল চলে গিয়েছে ক্যানবেরায়। আর শ্রেয়স রয়েছেন সিডনিতেই।