


নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ‘বিউটি স্পট’ বাঘাযতীন পার্ক। একদিকে রবীন্দ্রমঞ্চ। আর একদিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শহিদ বেদি। ঘেরা দেওয়া এই মাঠের বাইরে জগিং ট্র্যাক। বসার জায়গা। চায়ের দোকান। কয়েকদিন আগে দুপুরে চায়ের কাপ হাতে আড্ডা দিচ্ছিলেন চার যুবক। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন দুই যুবতী। তাঁরা এসআইআর নিয়ে আলোচনা করছিলেন। শিলিগুড়ির ভোটের হাওয়া কী বুঝছেন?
উত্তরে বেসরকারি সংস্থার কর্মী সুজয় সরকার বলেন, অভিভাবক। মানে? মেয়র। শহরে উন্নয়নের স্বাদ বদলের চেষ্টা করছেন। সঙ্গে সঙ্গে গার্গী চক্রবর্তী নামে আর এক যুবতী বলেন, মেয়র প্রাক্তন মন্ত্রী। এখানকার হেভিওয়েট প্রার্থী। শহরের যেখানেই যা হয়, তিনি ছুটে যান। নিয়মিত ফোনে নাগরিকদের সমস্যা শোনেন। মেটানোর চেষ্টা করেন। এখানেই মেডিকেল রিপ্রেজেন্টিটিভ সুমন দাসের সংযোজন, এখানে সিপিএম প্রার্থী শরদিন্দু চক্রবর্তী ওরফে জয়ের সারথি তাঁর ‘গুরু’ প্রাক্তন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য। শংকর ঘোষ প্রাক্তন ‘বন্ধুও’ বটে জয়। এতেই রামে যাওয়া বাম ভোট এবার সিপিএমে ফিরবে। যার সফুল মেয়র.......।
সঙ্গে সঙ্গে আপত্তি তোলেন শিক্ষক সজল রায়। সিগারেটে সুখ টান দিয়ে বলেন, এতটা সহজ নয়। বর্তমান বিধায়ক তথা বিজেপি প্রার্থী শংকর ঘোষ ভোটের ময়দান চষে বেড়াচ্ছেন। তাই তোদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দুই অভিভাবই এবার ‘কর্পুরের’ মতো উড়ে যাবেন।
বিজেপি প্রার্থীকে এগিয়ে রাখার কারণ কী? সজলের ব্যাখা-মানুষের জন্য লড়াই। স্থানীয় প্রশাসনের বাধায় বিধায়ক কোটার টাকায় উন্নয়নমূলক কাজ করতে না পারলেও বিভিন্ন ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দরবার করেন। তাঁকে থামিয়ে আর এক যুবতী দীপালি দাস বলেন, তিনি টিভি’র নেতা হিসেবে পরিচিত। এখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোগিতায় ছোট ছোট প্রচুর কাজ হয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, রূপশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী মিলছে। কাজেই সবদিক থেকে এখানে অভিভাবকের পাল্লাই ভারী।
শুধু বাঘাযতীন পার্ক নয়, শহরের পূর্ব থেকে পশ্চিম, উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বত্র শিলিগুড়ির ভোট নিয়ে চলছে জোর চর্চা। তাতে কোথাও স্থান পাচ্ছে-কেন্দ্রীয় বাজেট থেকে এসআইআর। ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা বা বিচারাধীন ভোটারের তকমা মেলার যন্ত্রণা রয়েছে। আবার কোথাও কোথাও শহরের যানজট, আইন-শৃঙ্খলা, জল সংকট, নিকাশির সমস্যা ঠেকের আলোচনায় প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে। এমন আলোচনায় কোথাও অভিভাবক গৌতমের পাল্লা ভারী। আবার কোথাও শংকর এগিয়ে। এখানে তাঁর পথের কাঁটা হিসেবে উঠে আসছে সিপিএমের প্রার্থীর নাম। তিনি পুরসভায় দীর্ঘদিনের কাউন্সিলার।
মহারণ-২৬’র এমন হাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যেও চলছে বাগযুদ্ধ। তৃণমূল কগ্রেসের শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের কো-অর্ডিনেটার কুন্তল রায় বলেন, অভিভাবক গৌতমদা’র ইমেজ, পুরসভার উন্নয়ন, সাংগঠনিক শক্তির জোরেই কেন্দ্রটিতে জোড়াফুল ফুটবে।
শিলিগুড়ি পুররসভার বিরোধী দলনেতা বিজেপির অমিত জৈন বলেন, শহরের উন্নয়নে ব্যর্থ মেয়র। তাই এবারও এখানে পদ্ম ফুলই ফুটবে। সিপিএমের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক সমন পাঠক বলেন, আমাদের লড়াই তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে। এখানে আমাদের ফল ভালো হবে। • প্রচারে বিজেপি প্রার্থী শংকর ঘোষ। - নিজস্ব চিত্র।