


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লক্ষ্মীবারে নন্দনকাননে মুখোমুখি লখনউ-কলকাতা। বল হাতে মহম্মদ সামির সামনে অজিঙ্কা রাহানে, রিঙ্কু সিংয়ের লড়াই ঘিরে চড়বে ডেসিবেল। কিন্তু মঙ্গলবার বাইপাস সংলগ্ন পাঁচতারা হোটেলে বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগের তৃতীয় সংস্করণে নবম দলের আত্মপ্রকাশের অনুষ্ঠানে ত্রয়ী মাতলেন আড্ডায়। রসিকতার মধ্যে যদিও মিশল হালকা স্লেজিং। ঠিক যখন হোম অ্যাডভান্টেজ নিয়ে আলতো করে চিমটি কাটলেন সামি। আর পালটা দিলেন রিঙ্কু। একমাত্র তখনই আঁচ মিলল ফুরফুরে আবহের লুকিয়ে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বিতার চোরাস্রোতের!
তিন ম্যাচে প্রকৃতির বদান্যতায় নাইটদের পকেটে ১ পয়েন্ট। লখনউ সেখানে দু’ম্যাচে ২। কিন্তু যতই অ্যাওয়ে টিম হোক, সঞ্জীব গোয়েঙ্কার দলে রয়েছেন সামি। যিনি কিনা ঘরোয়া ক্রিকেটে বাংলার পয়লা নম্বর বোলার। ফলে ঘরের মাঠের সুবিধা একচেটিয়া কেকেআরের থাকছে না। ভাগ বসাচ্ছেন সামি। দুরন্ত ফর্মে থাকা বর্ষীয়ান পেসার বলেই দিলেন, ‘কেকেআর আমারও দল ছিল। জানি কার বিরুদ্ধে খেলব, কীভাবে বল করব। ইডেনে সুবিধা পাব, কারণ আমিও লোকাল। নাইটরা অবশ্য আমার চেয়ে বেশি সময় ধরে পিচ দেখছে। ওরা বেশি জানে।’ এরপরই তাঁর খোঁচা, ‘ফিরভি কুছ না কুছ তো ফায়দা মিলেঙ্গে।’ সঙ্গে সঙ্গে বাউন্সারে হাসিমুখেই হুক রিন্টুর, ‘না, না। আমরা কোনও ফায়দাই পাইনি!’
এবার মাইক হাতে মঞ্চে প্রবেশ সৌরভ গাঙ্গুলির। ক্ষুরধার ক্রিকেটমস্তিষ্কের অধিকারীর জোরালো সওয়াল সামির হয়ে, ‘একপ্রান্তে বুমরাহ। অন্যপ্রান্তে সামি। ভারতের বোলিং আক্রমণ এটাই হওয়া উচিত। সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে স্পেলটা অবিশ্বাস্য। চার ওভারে মাত্র ৯ রান, ভাবাই যায় না। বাংলার হয়ে রনজিতেও উজাড় করে দিয়েছে। দেশের হয়ে আরও অন্তত দুই মরশুম খেলার ক্ষমতা ধরে। আশা করব, সেই সুযোগটা পাবে।’ সামির ফিটনেস নিয়ে অবশ্য অনেকেরই সংশয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের রগড়ানি সহ্য করতে পারবেন ৩৫ বছর বয়সি? বঙ্গক্রিকেটের মহারাজ কিন্তু প্রশ্নটাকেই ওড়ালেন গ্যালারিতে। সিএবি সভাপতির দাবি, ‘চার-পাঁচ মাস ঘরোয়া ক্রিকেট খেললে ফিট হতে বাধ্য। দিনে ৩০-৩৫ ওভার বোলিং সহজ নয়। আবার বলছি, সামিকে ভারতের জার্সিতে দেখতে চাই।’
অজিঙ্কা রাহানে আবার সোনালি-বেগুনি শিবিরে চতুর্থবারের জন্য আইপিএল আনতে চান। গলায় আত্মবিশ্বাস, ‘লক্ষ্য অবশ্যই চ্যাম্পিয়ন হওয়া। নিজেদের সেরাটা দিচ্ছি। তবে ফলাফল হাতে নেই।’ থাকল কিং খানের প্রতি কৃতজ্ঞতা। নাইট ক্যাপ্টেন শোনালেন, ‘শাহরুখ দলের বিগ ব্রাদার। খারাপ সময়েও পাশে থাকেন।’ রসগোল্লার হাঁড়ির পাশাপাশি ট্রফি জেতার জন্য রাহানেকে বিশেষ টিপসও দিলেন সৌরভ, ‘রিঙ্কুকে অত পরে নামিও না। ওকে তুলে আনো ব্যাটিং অর্ডারে।’ রিঙ্কুর গলায় ধরা পড়ল আবেগ, ‘ইডেনে দর্শকরা নাম ধরে ডাকলে দারুণ আনন্দ হয়। প্রচুর মেহনত করে এখানে পৌঁছেছি।’ কাঁটা বিছানো পথ ক্ষত-বিক্ষত রক্তাক্ত পায়ে পেরতে হয়েছে যে!