


ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: একদিকে দু’হাতে সাইকেল উঁচু করে একের পর এক রেললাইন পার হচ্ছে পড়ুয়ারা। অন্যদিকে, হুইসেল দিয়ে প্রচণ্ড গতিতে ধেয়ে আসছে রাজধানী এক্সপ্রেস। একটু অসতর্ক হলে যেকোনো মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে বড়সড় দুর্ঘটনা। এই ছবি জলপাইগুড়ির রানিনগর এলাকার। রেললাইনের একপাশে এলাকার একমাত্র হাইস্কুল। অন্যপাশে অন্তত পাঁচটি গ্রাম। কিন্তু স্কুলে যাওয়ার পথ বলতে রেললাইন পার হওয়া। রানিনগরের চেওড়াপাড়া, ভাটিয়াপাড়া, বক্সিপাড়া, গেদিপাড়ার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহুবার রেলের কাছে লাইন পারাপারের জন্য উড়ালপুর বা আন্ডারপাস করে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। লাভ হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে রেললাইন পেরিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে হয় এলাকার ছেলেমেয়েদের।
কোলের শিশু নিয়ে একইভাবে রেললাইন পেরিয়ে কাজে যান মহিলারা। বয়স্কদেরও নিস্তার নেই। আগে তাও দু-একটা লাইন পেরলেই হতো। কিন্তু ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন পেরতে হয় ছ’টি লাইন। সারাক্ষণ এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করছে। ফলে ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে দিনভর উদ্বেগে থাকেন অভিভাবকরা। অনেকে তো শুধুমাত্র রেললাইন পেরনোর ভয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন।
রেললাইন পেরিয়ে যাতায়াতের কারণে বিদ্যালয়ে যে পড়ুয়ার সংখ্যা কমছে তা স্বীকার করে নিয়েছেন রানিনগর রবীন্দ্রনাথ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক দীপক সরকার। তিনি বলেন, একটা সময় স্কুলে দেড় হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রী ছিল। কমতে কমতে এখন হাজার খানেক এসে দাঁড়িয়েছে। রেললাইন পেরিয়ে যেভাবে পড়ুয়ারা স্কুলে যাতায়াত করে, তাতে শুধু অভিভাবকরা নন, আমরাও যথেষ্টই দুশ্চিন্তায় থাকি। প্রধান শিক্ষকের ক্ষোভ, রেললাইন পেরতে না চাইলে মোহিতনগর গোলঘুমটি হয়ে কয়েক কিমি পথ ঘুরতে হবে। এতে অনেকটা সময় চলে যাবে। সেকারণে ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি এলাকার বাসিন্দারাও রেললাইন পেরিয়ে যাতায়াত করেন। বহুবার রেলের কাছে উড়ালপুল বা আন্ডারপাসের দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু সমস্যার সুরাহা হয়নি।
গত রবিবার থেকে রানিনগর স্টেশনে দু’টি ট্রেনের স্টপ চালু হয়েছে। এনিয়ে রেলের তরফে ওই স্টেশনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে হাজির হয়ে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের ডিআরএম কিরেন্দ্র নারাহ এবং জলপাইগুড়ির সাংসদ ডাঃ জয়ন্তকুমার রায়ের হাতে রানিনগর রবীন্দ্রনাথ হাইস্কুলের তরফে স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়। ছাত্রছাত্রীদের কথা ভেবে রানিনগর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় যাতে উড়ালপুল বা আন্ডারপাস করা হয়, তা নিয়ে জানানো হয় আর্জি। এনিয়ে সাংসদ বলেন, দাবিপত্র পেয়েছি। রেলের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন ডিআরএম।
সোমবার সাইকেল নিয়ে রেললাইন পার হচ্ছিল ভাটিয়াপাড়ার বাসিন্দা দশমের ছাত্রী উর্মিলা বর্মন। তার কথায়, স্কুলে যাতায়াতে খুবই কষ্ট হয়। বেশ কিছুটা দূরে জল যাওয়ার জন্য একটা সরু আন্ডারপাস আছে। তার নীচে দিয়ে যাওয়া খুব ঝুঁকির। তাছাড়া বর্ষার সময় তিনমাস সেখানে জল জমে থাকে। ফলে সারাবছর রেললাইন পেরিয়েই যাতায়াত করতে হয় আমাদের। • নিজস্ব চিত্র।