


সংবাদদাতা, বোলপুর: শুক্রবার সকালে বিশ্বভারতীতে ঘরোয়া পরিবেশে পালিত হল বসন্ত বন্দনা। ভোরে বৈতালিকের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর ‘ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল’ গানের সুরে আশ্রম চত্বরে শোভাযাত্রা বের হয়। পরে গৌরপ্রাঙ্গণের মঞ্চে বসন্তের গান ও নাচে মেতে ওঠেন পাঠভবন, শিক্ষাসত্র সহ বিভিন্ন ভবনের পড়ুয়ারা। ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশনায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠান। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ, বোলপুরের মহকুমা শাসক অনিমেষকান্তি মান্না ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, কর্মী সহ অনেকেই। বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ বলেন, বসন্ত বন্দনা শুধু ঋতু উৎসব নয়, এটি চেতনা ও রঙের উৎসব। শিক্ষার্থীরা গৌরপ্রাঙ্গণের পবিত্র পরিবেশে সুন্দর অনুষ্ঠান উপস্থাপন করে সবাইকে আনন্দ দিয়েছে। বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যও বজায় রাখা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হেরিটেজ রক্ষার স্বার্থে ২০২৩ সাল থেকে আশ্রম প্রাঙ্গণে রং খেলা বন্ধ রাখা হয়েছে। এই বছরও আনুষ্ঠানিকভাবে আবির ব্যবহার করা হয়নি। তবে, এদিন অনুষ্ঠানের শেষে আনন্দে ছাত্রছাত্রীরা একে অপরকে সামান্য আবির মেখে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে শেষবার শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসবে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ছিল। সে বছর বিপুল ভিড় হওয়ায় অনুষ্ঠান পরিচালনায় সমস্যা হয় এবং নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতির কারণে অনুষ্ঠান সীমিত আকারে হয়। তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত ঘরোয়া পরিবেশেই বসন্ত বন্দনা পালিত হচ্ছে। এদিন পড়ুয়াদের মধ্যেও ছিল যথেষ্ট উৎসাহ। নবনীতা মোদক ও পূজা মুখার্জি বলেন, আমাদের কাছে শান্তিনিকেতনে এটি একটি বড়ো উৎসব। এই দিনের জন্য আমরা সারা বছর অপেক্ষা করি। এবারও বন্ধুদের সঙ্গে খুব আনন্দ করেছি।
এদিন সন্ধ্যায় সংগীত ভবনের ছাত্রীরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটক ‘নটীর পূজা’ মঞ্চস্থ করেন। এই নাটকের নির্দেশনায় ছিলেন অধ্যাপক অমর্ত্য মুখোপাধ্যায়। এ বছর এই নাটকের শতবর্ষ পূর্তি। কিছু দিন আগে উত্তরায়ণ ক্যাম্পাসের কোনার্ক বাড়িতে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়েছিল। তবে, সেখানে দর্শক প্রবেশ সীমিত ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিনের মঞ্চায়ন সকলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়।