


গুয়াহাটি, ১ আগস্ট: টানা বৃষ্টির জেরে গুয়াহাটিতে ফের ভূমিধসের আতঙ্ক। মঙ্গলবার সকালে নূনমাটি এলাকার মঠঘরিয়া অঞ্চলে পাহাড়ের একাংশ ধসে একটি বাড়ির উপর এসে পড়ে। এই ঘটনায় মাটির নীচে চাপা পড়ে একই পরিবারের তিনজন বেঘোরে প্রাণ হারান। গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে পরিবারের আরও এক সদস্যকে। তাঁকে ইতিমধ্যে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম নগেন রাজবংশী (৪৪), তাঁর স্ত্রী সানু রাজবংশী (৩৮) এবং তাঁদের ১২ বছরের মেয়ে মীনা রাজবংশী। দুর্ঘটনায় তাঁদের ১৯ বছরের ছেলে বিপ্লব রাজবংশী জীবিত অবস্থায় ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে উদ্ধার হন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল প্রায় ৮টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। সেই সময় পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। আচমকাই পাশের পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে বাড়িটির উপর আছড়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে বাড়িটি মাটি ও ধ্বংসাবশেষের নীচে চাপা পড়ে যায়। খবর পেয়ে জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করা হয়। তিনজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, সোমবার রাত থেকে গুয়াহাটিতে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টির জেরেই পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে এই ভূমিধস ঘটে। নগেন রাজবংশী পেশায় দৈনিক মজুরির শ্রমিক ছিলেন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ওই এলাকায় বসবাস করছিলেন তাঁরা। এদিকে, গুয়াহাটির আরও কয়েকটি এলাকায় ভূমিধসের খবর সামনে এসেছে। আমসিং এবং আথগাঁও এলাকাতেও বড় ধরনের ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। ওই দুই ঘটনায় একজন করে মৃত্যুর খবর স্থানীয়ভাবে ছড়িয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও সেই মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।