


অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: বরফের চাদরে মোড়া পাহাড়। শাল, পাইন, দেবদারুর জঙ্গলে ঘেরা উপত্যকা। বাহারি টিউলিপের বাগান। হ্রদের স্বচ্ছ জল। ছবির মতো সুন্দর কাশ্মীরই তো হাজার স্বপ্নের জাল বোনার আদর্শ ঠিকানা। শ্রীনগরের হায়দরপুরা এলাকার ছোট্ট সুহেল ভাটও ব্যতিক্রম নয়। কী সেই স্বপ্ন? জাতীয় দলের নীল জার্সিতে জাল কাঁপাচ্ছেন। আজ তা বাস্তবের দোরগোড়ায়। কিন্তু প্রতিশ্রুতিমান স্ট্রাইকারের বুকে জমে একরাশ উদ্বেগ। অশান্ত কাশ্মীরের ভিটেতে পরিবারকে ছেড়ে তাঁকে আসতে হবে কলকাতায় জাতীয় শিবিরে। সেখান থেকে ব্যাংকক হয়ে হংকং। তাই স্বপ্ন ছোঁয়ার আনন্দ খোলা মনে উপভোগ করতে পারছেন না সুহেল ভাট।
রাত হলেই সাইরেনের আওয়াজের সঙ্গী ব্ল্যাক আউট। এমনকী, দিনের আলোতেও রাস্তাঘাট শুনশান। জম্মু-কাশ্মীর এখন দিন কাটাচ্ছে আতঙ্কে। অবশ্য বারুদের কালো ধোঁয়া এখনও ঢাকতে পারেনি সুহেলের বেমিনা গ্রাম। তবে প্রতিনিয়ত কানে আসছে গোলাগুলির আওয়াজ। তাই জাতীয় শিবিরে যোগ দেওয়ার আগে প্রাণ খুলে প্রস্তুতিও সারতে পারছেন না সুহেল। মাঠে যাওয়ার উপায় নেই। যে ফুটপাথে ফুটবলের হাতেখড়ি, সেটাও আজ ফাঁকা। অগত্যা বাড়িতেই ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। তবু হাল ছাড়ছেন না মোহন বাগানের তরুণ স্ট্রাইকার লড়াকু সুহেল ভাট। মুঠোফোনের ওপার থেকে জানালেন, ‘আশেপাশের বেশ কয়েকটি গ্রাম অশান্ত। তবে আমরা সবাই ভালো আছি। প্র্যাকটিস করতে সমস্যা হচ্ছে। কিছু করার তো নেই। জাতীয় শিবিরে যোগ দিয়েই নিংড়ে দেব নিজেকে।’
মেহরাজউদ্দিন ওয়াডু, ইসফাক আমেদের দীর্ঘদিন পর ফের এক কাশ্মীরি ডাক পেয়েছেন জাতীয় শিবিরে। কিন্তু উপত্যকায় সেই খুশি উদযাপনের মানসিকতা নেই। সুহেলের ছোটবেলার কোচ মেহরাজউদ্দিন ওয়াডু জানালেন, ‘ও খুবই পরিশ্রমী। এই সুযোগ ওর প্রাপ্য ছিল। কিন্তু খারাপ লাগছে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এখানে ও প্রস্তুতি নিতে পারছে না। তবে ছোট থেকেই বারুদের গন্ধ আর আগুনের আঁচের মধ্যে বড় হয়েছে ও। আমার বিশ্বাস, এই পরিস্থিতি ওকে বিচলিত করতে পারবে না। জাতীয় দলে সুযোগ পেলে ও সফল হবেই।’