


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: খোদ কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীই ছাত্রদের আইনশৃঙ্খলা হাতে তুলে নেওয়ার নিদান দিলেন। সুকান্ত মজুমদার ধাদকা পলিটেকনিক মাঠ থেকেই মেমারি পলিটেকনিকের পড়ুয়াদের পাল্টা মার দেওয়ার ‘শিক্ষা’ দেন। মেমারি পলিটেকনিক কলেজে তৃণমূল নেতারা পড়ুয়াদের মেরেছে, এই কথা শুনেই তিনি বলেন, ‘তোমাদেরকে যারা মারধর করছে তাদের তোমরা কেন ছেড়ে দিচ্ছ। পলিটেকনিকের পড়ুয়া, বিজ্ঞান পড়েছ। নিউটনের তৃতীয় সূত্র জান। প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। টিএমসি পেটাতে এলে পাল্টা পেটাও। সাধারণ মানুষ থেকে বিজেপি সমর্থকদের বলছি, তৃণমূল পেটাতে এলে পাল্টা মার দিন। বাকিটা আমরা বুঝে নেব।’ কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর এই নিদান রীতিমতো আলোড়ন ফেলেছে এলাকায়। পড়ুয়াদের যেভাবে উত্তেজিত করার চেষ্টা হচ্ছে, তা রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলেছে। এর তীব্র সমালোচনা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, পড়ুয়াদের মনে বিষ ঢালা কি কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর কাজ। উনি নাকি পেশায় অধ্যাপক! তাঁর এই ভাষা। আসলে বিজেপি অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে। মানুষকে খেপিয়ে, উত্তেজিত কথা বলে খবরে টিকে থাকতে চাইছে।
সুকান্ত মজুমদার যে ময়দানে পড়ুয়ারদের পেশিশক্তির আস্ফালন দেখানোর নিদান দিয়েছেন, সেখানেই কিন্তু বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতা প্রকট হয়েছে। এদিন তিনি ধাদকা পলিটেকনিক মাঠে নরেন্দ্র কাপের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। পরিকল্পনা ছিল, প্রতি মণ্ডল থেকে একটি টিম তৈরি করা হবে। তাঁদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে। ১১ সেপ্টেম্বর স্বামীজির শিকাগোতে বক্তব্য রাখার দিনকে স্মরণ করেই এই প্রতিযোগিতা। শেষ হবে ১৭ সেপ্টেম্বর। আসানসোল বিজেপি সাংগঠনিক জেলার হাল এতটাই রুগ্ন যে, প্রতি মণ্ডল থেকে একটা ১১ জনের ফুল টিম করতে পারেনি। বাধ্য হয়ে ২৪টি টিম নিয়ে শুরু হয়েছে এই প্রতিযোগিতা। ছ’টি মণ্ডল থেকে টিম তৈরি করা যায়নি। কেন টিম নামানো গেল না প্রশ্ন শুনে যুব মোর্চার নেতৃত্ব, যাঁরা এই প্রতিযোগিতার মূল আয়োজক তাঁরা মুখ লুকোলেন। শেষে সত্য স্বীকার করেন বিজেপি জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, সংখ্যালঘু এলাকায় সাংগঠনিক দুর্বলতা আছে। কিছু জায়গায় যাঁরা খেলোধুলো করেন, তাঁদের সঙ্গে আমাদের সমন্বয় হয়নি। অনেকে আবার তৃণমূল কংগ্রেসের হুমকির ভয়েও পিছিয়ে এসেছে। তাই ছ’টি মণ্ডলের ফুটবল টিম নামানো যায়নি।
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ফুটবল খেলার উদ্বোধন করে পড়ুয়াদের মারধর করার নিদান দেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক শিক্ষাঙ্গণে শিক্ষার মানোন্নয়ন কী ভাবছে সেই প্রশ্নের সদুত্তর দেননি দপ্তরের মন্ত্রী। তিনি বলেন, এটি ক্রীড়া মন্ত্রক দেখে। খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বললেই বুঝতে পারবেন তাঁরা বলছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বেই দেশে খেলাধুলোর সবচেয়ে বিকাশ হয়েছে। দুর্গাপুর এনআইটিতে পুরীর শঙ্করাচার্য নিশ্চলানন্দ সরস্বতীর দীক্ষা অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে বলেন, কী অসুবিধা আছে। টুকরে টুকরে গ্যাংয়ের মতো তিনি তো দেশ বিরোধী কথা বলবেন না। স্বামীজিও তো গেরুয়াধারী হয়ে শিকাগোয় ভাষণ দিয়েছিলেন।
ঘুরিয়ে স্বামীজির সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির তুলনা করেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, শিকাগোর ভাষণকে সামনে রেখে নরেন্দ্র ক্লাবের উদ্বোধন হল। ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পুজোয় ভারতের বিশ্বকর্মা, আরেক নরেন্দ্রর অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে তা শেষ করা হবে।