


হায়দরাবাদ: টানা দুটো জয় অন্ধকার কাটিয়েছে। জ্বালিয়েছে আশার প্রদীপ। কিন্তু প্লে-অফ এখনও অনেক দূর। সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে রবিবার সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধেও ছন্দ বজায় রাখতে হবে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। উপ্পলে অজিঙ্কা রাহানে ব্রিগেডের জয়ের হ্যাটট্রিকের দিকে সেজন্যই তাকিয়ে সোনালি-বেগুনি সমর্থকরা। কিন্তু কমলা জার্সিধারীরাও জিতেছে টানা পাঁচ ম্যাচ। এই মুহূর্তে ৯ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার তিন নম্বরে হায়দরাবাদ। সেখানে কলকাতার সংগ্রহ ৮ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট। আর একটা ম্যাচে হারলেও প্লে-অফের আশা কার্যত শেষ হয়ে যাবে। নিশ্চিত হবে তালিকার নীচের দিকে থাকা।
শাহরুখ খানের ফ্র্যাঞ্চাইজি শেষ দুটো ম্যাচ জিতলেও দলে বিস্তর সমস্যা। ওপেনিংয়ে ফিন অ্যালেনের পর ক্রমাগত ব্যর্থ টিম সেইফার্ট। অথচ, রাচীন রবীন্দ্র দিনের পর দিন বসে রয়েছেন ডাগ আউটে। ক্যাপ্টেন রাহানেকে নিয়েও হাজারো প্রশ্ন। প্রথম ম্যাচে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে পঞ্চাশের পর আর কোনো বড় ইনিংস নেই। এমনিতেই পাওয়ার প্লে’র পর তাঁর স্ট্রাইক রেট মন্থর হয়ে পড়ছে। শেষ তিন ম্যাচে চার ওভারও টিকে থাকেননি। তার মধ্যে দুটোতে আবার শূন্যতেই ফেরেন। শুধু ব্যাটিংই নয়, রাহানের নেতৃত্বেও অজস্র সমস্যা। প্রতিযোগিতার মাঝপর্বে তাঁকে ছেঁটে ফেলার জল্পনা জোরালো হয়েছিল। পরপর জয়ে তা আপাতত স্তিমিত। ফের হারলে বিষয়টি আবার মাথাচাড়া দিতেই পারে।
কলকাতার দুটো জয়েরই প্রধান কারিগর রিঙ্কু সিং। রাজস্থানের বিরুদ্ধে ইডেনে অপরাজিত ৫৩ রানের পর লখনউয়ের বিরুদ্ধে একানা স্টেডিয়ামে ৮৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। দুটোতেই প্রবল চাপের মুখে রুখে দাঁড়ান বাঁ-হাতি। কিন্তু ক্যামেরন গ্রিন, অঙ্গকৃশ রঘুবংশী, রভম্যান পাওয়েলরা ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগছেন। রিঙ্কু ছাড়া কেকেআরের ইতিবাচক দিক হল সুনীল নারিন ও বরুণ চক্রবর্তীর বল হাতে সাফল্য। লখনউয়ের বিরুদ্ধে সুপার ওভারে জয়ের ক্ষেত্রে ক্যারিবিয়ান মিস্ট্রি স্পিনারের বোলিংয়ের বড় ভূমিকা ছিল। বরুণ আবার দুঃসময় কাটিয়ে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে অভিষেক শর্মা, ট্রাভিস হেড, ঈশান কিষান, হেনরিখ ক্লাসেনদের থামানো মোটেই সহজ হবে না। বরং বড়ো চ্যালেঞ্জই অপেক্ষা করছে নারিন-বরুণের সামনে। অভিষেক (৪২৫) আর ক্লাসেন (৪১৪) তো অরেঞ্জ ক্যাপের দৌড়েও রয়েছেন।
শ্রীলঙ্কার পেসার মাথিশা পাথিরানা অবশ্য রবিবার তুরুপের তাস হয়ে উঠতেই পারেন। যা আভাস, তাঁর গায়ে এদিনই প্রথম উঠতে পারে নাইটদের জার্সি। সেক্ষেত্রে কলকাতার বোলিং আক্রমণের তীক্ষ্ণতা বাড়বে। অবশ্য সানরাইজার্সও প্যাট কামিন্সের উপস্থিতিতে উজ্জীবিত। শুধু কামিন্স নয়, এশান মালিঙ্গা, প্রফুল হিঞ্জ, সাকিব হুসেনদের উপস্থিতিতে হায়দরাবাদের পেস আক্রমণ রীতিমতো শক্তিশালী। উলটো দিকে পাথিরানা খেললে বৈভব অরোরা, কার্তিক ত্যাগী, গ্রিনকে নিয়ে গড়া নাইটদের পেস অ্যাটাকেরও শক্তি বাড়বে। দু’দলের শেষ সাক্ষাতে ইডেনে ৬৫ রানে জিতেছিল সানরাইজার্স। ফলে মনস্তাত্বিকভাবে এগিয়ে ঈশান-অভিষেকরা। তবে কলকাতাও কোণঠাসা অবস্থা থেকে টানা দু’ম্যাচ জিতেছে। সেটাই হয়ে উঠছে রিঙ্কুদের প্রেরণা।