


নয়াদিল্লি, ১১ ফেব্রুয়ারি: বেলডাঙা মামলায় নয়া মোড়। আজ, বুধবার এই মামলায় হস্তক্ষেপ করল না শীর্ষ আদালত। দেওয়া হল না স্থগিতাদেশও। উলটে খারিজ হল রাজ্যের আবেদন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মামলাটি ফিরল কলকাতা হাইকোর্টেই। আজ, বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। সেখানে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট মুখবন্ধ খামে হাইকোর্টে জমা দেবে তদন্তকারী দল এনআইএ। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর ফলে বেলডাঙা অশান্তির মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে নির্দেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এনআইয়ের হাতে যে তদন্তভার তুলে দিয়েছিল সেটিই বহাল রইল। আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তদন্ত চালাবে এনআইএ। তবে রাজ্য সরকার চাইলে হাইকোর্টের কাছে মামলার পুনর্বিবেচনার আর্জি জানাতে পারবে। জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, রাজ্যকে তথ্য সরবরাহের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। তবে শেষে হাইকোর্টই দু’পক্ষের বক্তব্য শুনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এর পাশাপাশি ইউএপিএ-র ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগ সঠিক হবে কী না, সে বিষয়টিও হাইকোর্ট দেখবে বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় এক পরিযায়ী শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গোলমালের সূত্রপাত। ঝাড়খণ্ডে কর্মরত ওই যুবকের মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। তাঁর পরিজনদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে মারধর করার পর খুন করা হয়েছে। পরে এটিকে আত্মহত্যা প্রমাণ করতে মৃতদেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা অভিযোগ করেন, তিনি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হওয়ার ফলেই তাঁকে আক্রমণ করা হয়েছিল। এরপরই মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় উত্তেজনা ছড়ায়। টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়। শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার মহেশপুর সংলগ্ন এলাকায় রেল অবরোধ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ অকুস্থলে গেলে ব্যাপক গোলমাল শুরু হয়ে যায়। পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন স্থানীয়রা। এরপরই বেলডাঙায় হিংসার ঘটনায় এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার।