


আমেদাবাদ: গত একবছর ধরে ফর্ম হাতড়ে বেড়াচ্ছেন সূর্যকুমার যাদব। শেষ ২৫ ম্যাচে ১২.৮৪ গড়ে তাঁর সংগ্রহ মাত্র ২৪৪। একটাও অর্ধশতরান নেই। সামনে টি-২০ বিশ্বকাপ। সূর্যকে নেতা রেখেই ভারতের দল ঘোষণা করেছেন নির্বাচকরা। তবে ক্যাপ্টেনের ব্যাটে এমন রানের খরা চিন্তায় রাখছে ম্যানেজমেন্টকে। খোদ সূর্যকুমার অবশ্য ফর্মে ফেরার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। সম্প্রতি গুজরাতের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে হাজির ছিলেন তিনি। সেখানে এই ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে স্কাই উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘পরীক্ষার ফল খারাপ হলে কি কেউ পড়াশোনা ছেড়ে দেয়? নিশ্চয়ই না। বরং আরও ভালো পড়াশোনা করে, তৈরি হয়ে পরেরবার পরীক্ষায় বসে। আমার ক্ষেত্রেও তাই। জানি, ঠিক কোথায় ভুল হচ্ছে। সেগুলি নিয়ে কাজ করছি। হলফ করে বলতে পারি, খুব শীঘ্রই সূর্যকুমার যাদবকে পুরনো ফর্মে দেখা যাবে।’
টি-২০ ফরম্যাটে বিধ্বংসী ব্যাটার হিসেবে বিশেষ খ্যাতি রয়েছে সূর্যকুমারের। মাঠের চারদিকে বোলারদের শাসন করার দক্ষতা তাঁকে এনে দিয়েছে ‘৩৬০ ডিগ্রি’ ব্যাটসম্যানের তকমা। কিন্তু ইদানীং তাঁর ব্যাটিংয়ে সেই ধার উধাও। শুরুতে দু-একটা চার, ছক্কা হাঁকালেও বড় ইনিংস খেলতে ক্রমাগত ব্যর্থ হচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে সূর্যকুমারের সংযোজন, ‘কেউই চায় না ফর্ম খারাপ যাক। কিন্তু এটাই খেলোয়াড়দের জীবন। সবদিন তোমার ভালো যাবে না। চড়াই-উতরাই থাকবেই। আমার কেরিয়ারও কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তাতে অবশ্য আমি বিচলিত নই। বরং ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করছি। এখান থেকে ঠিক ঘুরে দাঁড়াব।’
সূর্যকুমারের মতো তাঁর সতীর্থরাও ক্যাপ্টেনের ফর্মে ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী। অভিষেক শর্মা, তিলক ভার্মারা মনে করেন, স্কাইয়ের রানে ফেরা কেবলমাত্র সময়ের অপেক্ষা। এই প্রসঙ্গে সূর্যকুমারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি হেসে বলেন, ‘এখন ১৪ জন জওয়ান আমার অভাব পূরণ করে দিচ্ছে। তবে ওরাও জানে, যেদিন আমার ব্যাটে বিস্ফোরণ হবে, তখন ঠিক কী ঘটবে। আমি এখন দলের অধিনায়ক। বাকি খেলোয়াড়দের দায়িত্বও আমার কাঁধে। ওদের সর্বদা আমি আত্মবিশ্বাস জোগাই। স্বাধীনতা দিই স্বাভাবিক খেলা মেলে ধরার। আমাদের দলও খুব শক্তিশালী। আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে খেতাব ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর প্রত্যেকে।’ খারাপ ফর্মে জন্য শুভমান গিলকে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে রাখেননি নির্বাচকরা। তবে মেগা আসরের একেবারে আগে ক্যাপ্টেন পরিবর্তনের পথে হাঁটেননি তাঁরা। সূর্যকুমারের উপরই আস্থা রেখেছেন। তবে আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে ব্যর্থ হলে গিলের মতো তাঁকেও ছেঁটে ফেলতে দু’বার ভাববেন না অজিত আগরকররা।