


নয়াদিল্লি, ১৮ সেপ্টম্বর: দিল্লির তিহার জেল থেকে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মুক্তি পেলেন স্বঘোষিত ‘গোরক্ষক’ ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ। যন্তর মন্তরে ককরোচ পার্টির বিক্ষোভের সময় স্কুলছাত্রী নিশু আজাদের বাবা সঞ্জয় কুমারকে মিছিলের সময় মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি তিহার জেলে বন্দি ছিলেন।
দিল্লির আদালত গত ১৫ সেপ্টেম্বর ভরদ্বাজকে তিন সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। আদালত জানিয়েছে, ওই সময় তাঁর আচরণ পর্যবেক্ষণ করার পর নিয়মিত জামিনের আবেদন নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগামী ৬ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা। গতকাল রাতে জেল থেকে বেরোনোর সময় ভরদ্বাজকে একটি গাড়ির দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। তারপরে সহযোগীদের সঙ্গে তিনি ওই গাড়িতে করেই সেখান থেকে চলে যান।
অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়ার সময় আদালত একাধিক শর্ত আরোপ করেছে। মামলাটি, তাঁর আইনজীবীদের সওয়াল বা অভিযোগকারী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা অন্য কোনও গণমাধ্যমে পোস্ট, প্রকাশ বা আলোচনা করতে তাঁকে নিষেধ করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগকারী, তাঁর মেয়ে বা মামলার কোনও সাক্ষীর সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রমাণ নষ্ট করার যে কোনও প্রচেষ্টার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহর থেকে ভারতদ্বাজকে আটক করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ককরোচ জনতা পার্টি তাঁর গ্রেপ্তারের দাবিতে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছিল। অভিযোগের সূত্রপাত একটি সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে, যেখানে ভারতদ্বাজ দাবি করেছিলেন যে ২৩ জুনের বিক্ষোভের সময় তিনি ওই ছাত্র আন্দোলনকারীর বাবার 'মাথার খুলি ফাটিয়ে দিয়েছিলেন' এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ থাকার কারণে গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ৪ সেপ্টেম্বর আটকের পর ৭ সেপ্টেম্বর তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয় এবং তিহার জেলে রাখা হয়। মামলাটি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন।