


সৌরাংশু দেবনাথ, আমেদাবাদ: কমপক্ষে ডজনখানেক দরওয়াজা! সবরমতীর দু’পাড়ে গড়ে ওঠা দেশের প্রথম হেরিটেজ সিটিতে পেল্লাই পেল্লাই দরজার অভাব নেই। শহরের অলিগলি, হাভেলি, চবুতরা আর স্থাপত্যে লুকিয়ে ইতিহাসের হাতছানি। এমন শহরেই যে কুড়ি ওভারের বিশ্বকাপ টানা দু’বার জিতে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে সূর্যরা অভিযানে নামবেন, তাতে আর আশ্চর্য কী!
যেটা তাৎপর্যের, সেটা হল মোতেরা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে আরও একটা অভিযানের সূচনা হয়েছিল। ১৯৩০ সালের ১২ মার্চ সবরমতী আশ্রম থেকে ডান্ডি মার্চ শুরু করেছিলেন মহাত্মা গান্ধী। মিনিট পনেরো দূরত্বের বাইশ গজে অবশ্য কোনও অহিংস সত্যাগ্রহ হচ্ছে না। বরং ব্যাট-বলের মহারণে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লড়াইয়ে মুখোমুখি ভারত-নিউজিল্যান্ড। কিউয়ি পাখির ডানা ছেঁটে মাটিতে আছড়ে ফেলাই হোমটিমের অবধারিত লক্ষ্য। তবে বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন বছর আগে ওডিআই বিশ্বকাপের ফাইনালের ক্ষত এখনো টাটকা। ফের স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা কুরে কুরে খাবে না তো? টিম ইন্ডিয়াকে কিন্তু এদিন একেবারেই চাপমুক্ত দেখাল। অধিনায়ক সূর্যকে দেখে মনেই হল না, চব্বিশ ঘণ্টা পরেই টস করতে যাবেন মিচেল স্যান্টনারের সঙ্গে। বরং হাসছেন, ইয়ার্কি করছেন দিব্যি।
নিউজিল্যান্ডও চনমনে। কাপ হাতে তোলার জন্য গ্যালারিতে উপস্থিত লাখখানেকেরও বেশি ক্রিকেটপ্রেমীর হৃদয় ভাঙতে তৈরি ব্ল্যাক ক্যাপসরা। তিন বছর আগে প্যাট কামিন্সও ঠিক এভাবেই মোতেরার গ্যালারিকে চুপ করিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। স্যান্টনারের গলায় তারই প্রতিধ্বনি। সূর্য অবশ্য মাছি তাড়ানোর ভঙ্গিতে উড়িয়ে দিলেন তা, ‘দূর, দূর, নতুন কিছু বলুক না। সবাই তো একই কথা বলছে!’ এ যেন খেলার মাঠে ইরান-আমেরিকা আমনে-সামনে।
ক্রিকেটঅন্ত প্রাণ জনতার অবশ্য পরিসংখ্যান নিয়ে ভাবার দায় নেই। সকাল থেকেই স্টেডিয়ামের বাইরে জার্সি, টুপির পসরার সামনে ভিড়। ঢাক-ঢোল নিয়ে উসেবে মেতে ওঠার আয়োজন সারা। আকুলভাবে চলছে টিকিটের খোঁজ। চুপিসারে কালোবাজারিও পুরোদমে। হোটেল মালিকরাও এক রাতের রুমের জন্য দশ-বারো হাজার দাম হাঁকছেন। শুধু তো বহিরাগতরা ক্রিকেটপ্রেমীরাই নন, শহরে আসছেন ভিআইপিরাও। বিশ্বকাপের ফাইনাল বলে কথা!
ভারতীয় সংসারে অবশ্য দু’জনকে নিয়ে উদ্বেগ চরমে। অভিষেক শর্মার ঘাতক যথারীতি অফ স্পিনই। নিউজিল্যান্ড অবধারিতভাবেই একই পথে হাঁটবে। বরুণ চক্রবর্তী আবার অতীতের ছায়া। সবসময় যে বাজে বল করছেন এমন নয়। কিন্তু ভালো বলগুলোও মার খাচ্ছে। আসলে সেরা ডেলিভারিগুলোও বিপজ্জনক দেখাচ্ছে না। র্যাংকিংয়ের একনম্বর ব্যাটার ও বোলার ফর্ম হাতড়ে বেড়ালেও ভারত উঠেছে ফাইনালে। এটাই অবশ্য ভরসা জোগাচ্ছে।
আসলে যশপ্রীত বুমরাহই পার্থক্য গড়ে দিচ্ছেন। কিন্তু রোজ রোজ কি আর ‘ব’য়ে বুমরাহ আসছে তেড়ে মন্ত্র কাজ করবে? অন্যদেরও তো দায়িত্ব নিতে হবে। কোচ গম্ভীরের আমলে অবশ্য প্র্যাকটিসের মতোই সমান গুরুত্ব পেয়েছে ভক্তি। ম্যাচ থাকলেই স্থানীয় মন্দিরে যাওয়া রুটিন। চন্দ্রগ্রহণের সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল প্র্যাকটিসও। এমনকি, আমেদাবাদের হোটেলও নাকি বদলেছে টিম ইন্ডিয়া। পয়মন্ত ব্যাপারটা রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে শিবিরে। আসলে ফর্মে-ধর্মে কোনোদিকেই ফাঁকি রাখছে না ভারত!