


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: তারাপীঠ মন্দিরে পুণ্যার্থী প্রবেশকে ঘিরে সেবায়েতদের মধ্যে গন্ডগোলের সৃষ্টি হল। যার জল গড়াল রামপুরহাট মহকুমা শাসকের অফিস পর্যন্ত। ১ পৌষ থেকে মন্দিরের নিয়মে বদল এসেছে। অভিযোগ, সেই নিয়মকে উপেক্ষা করে সাধারণ ও ভিআইপি লাইন বন্ধ রেখে লোক ঢোকাচ্ছিলেন দুজন পালাদার। মন্দিরের উপদেষ্টা কমিটির কনভেনর প্রবীণ সেবায়েত রবি মুখোপাধ্যায় এই নিয়ে সিকিউরিটির কাছে জানতে চান। রবিবাবু বলেন, সেই সময় এক পালাদার আমাকে গালিগালাজ করার পাশাপাশি ‘মন্দির কমিটিকে মানি না’ বলে মন্তব্য করেন। বিষয়টি বরিষ্ঠ সেবায়েত সুকুমার মুখোপাধ্যায়কে জানাই। অভিযোগ, এরপরই সুকুমারবাবু এসে মন্দিরের সমস্ত সিকিউরিটি ও স্টাফদের প্রত্যাহার করে নেন।
প্রশাসনিক নিয়ম কেন ভাঙা হচ্ছে তা জানতে চেয়ে মঙ্গলবার পালাদারকে অফিসে ডেকে পাঠান মহকুমা শাসক সৌরভ পান্ডে। অফিসের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন পালাদারের কাকা তথা তারাপীঠের বিজেপি নেতা নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে নিখিলবাবু সংবাদ মাধ্যমে জানান, মহকুমা শাসক ভাইপোকে হুমকি দিয়ে বলেছেন বিজেপি দল করেন। মন্দির, টিআরডিএ এবং শ্মশান নিয়ে অভিযোগ করলে ভাইপোর লজ ভেঙে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন। সুকুমার পান্ডার কথা মতো চলতে হবে। নিখিলবাবু বলেন, সুকুমারও যা আমিও তাই। দুজনেই সেবায়েত। মন্দিরে নিত্যদিন প্রশাসন, নেতা, মন্ত্রী, সেবায়েতদের আত্মীয়দের কোনও কুপন ছাড়াই মন্দিরে ঢোকার নিয়ম রয়েছে। সেই মতো কয়েকজন আত্মীয়কে ঢুকিয়েছিল ভাইপো। তাতে সুকুমার কোন ক্ষমতাবলে মন্দিরের সিকিউরিটি তুলে নিতে পারেন। তিন মাস ধরে মন্দিরের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে সুকুমার। আমি বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে যাব। এদিন মন্দিরের দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি অভিযোগও জমা দিয়েছি মহকুমা শাসকের অফিসে।
যদিও টিআরডিএর ভাইস চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, ওই পালাদার যখন মন্দির কমিটিকে মানবেন না তখন সিকিউরিটি ও স্টাফ দিয়ে তাঁকে সাহায্য করার কোনও মানে নেই। তাই তুলে নেওয়ার জন্য বলি। শান্তিপূর্ণভাবে মন্দির পরিচালনার দায়িত্ব সকলের। আসলে এই পালদার ১৫ বছর নানাভাবে মন্দিরের টাকা লুটে এসেছে। নতুন নিয়মে সেটা পারছে না বলে কাকাকে নিয়ে রাজনীতি করে মন্দিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে।
এদিকে মহকুমা শাসক বলেন, নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি চিনি না। দুজন পালাদার এসেছিলেন। শুধু বলা হয়েছে, মন্দিরে কোনও অসুবিধের সৃষ্টি করবেন না। যে নিয়ম করা হয়েছে সেগুলি মেনে চলবেন। তখন তাঁরা শ্মশানে বৈষ্ণবদের সমাধিতে পিএইচই কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুললে বলা হয়, ওটা পরিবেশ আদালতের নির্দেশে হচ্ছে। নিষেধ করলে কাজ হবে না। হুমকি দেওয়া হয়নি। তবে রিসিভ সেকশনে মন্দিরে পুণ্যার্থীদের লাইন সংক্রান্ত একটি অভিযোগ জমা পড়েছে।