


জয়পুর: পুরভোটে কংগ্রেসের থেকে সামান্য এগিয়ে রইলেও রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মার জন্য কাঁটা রয়েই গেল। তাঁর নিজের জেলা ভরতপুরে নির্দলরা ধরাশায়ী করেছে বিজেপি প্রার্থীদের। ভরতপুরের পাশের জেলা দিগেও প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন গেরুয়া প্রার্থীরা। সোমবার প্রকাশিত হয়েছে রাজস্থানের পুর নির্বাচনের ফল। তাতে দেখা যাচ্ছে, ভরতপুর এবং দিগের ১৩টি পুরসভার ৪১৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৬২টিই গিয়েছে নির্দলদের দখলে। এই দুই জেলার ৬৩.১ শতাংশ আসন তাঁরা পেয়েছেন। আর বিজেপি পেয়েছে ১৩১টি আসন। শতকরা হিসাবে মাত্র ৩১.৬ শতাংশ। আর তৃতীয় স্থানে থাকা কংগ্রেসের দখলে ১৯টি ওয়ার্ড (৪.৬ শতাংশ)। এছাড়া বিএসপি দু’টি এবং আরএলপি একটি আসন পেয়েছে।
পুর নির্বাচনের ফলাফলে শহর এলাকায় বিজেপির প্রতি নাগরিকদের অনাস্থা সামনে চলে এল বলে অনেকের মত। কারণ, তিন বছর আগে এই দুই জেলার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটিতেই জয়ী হয়েছিল বিজেপি। শুধু মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল নন, এই এলাকার মধ্যেই পড়ে রাজ্যের মন্ত্রী জওহর সিং বেধামের নির্বাচনি কেন্দ্র নগর। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী প্রচার করেও দলীয় প্রার্থীদের জেতাতে পারলেন না কেন? এই নিয়ে সাফাই দিতে গিয়ে ভরতপুর জেলার বিজেপি প্রেসিডেন্ট শিবানী ডেমা দায়ী করেছেন গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকেই। তিনি বলেন, ‘পুর নির্বাচনে ব্যক্তিগত পরিচিতির ভিত্তিতে মানুষ ভোট দেয়। একটি দল কোনো আসনে একজনকেই প্রার্থী করতে পারে। অন্যরা টিকিট না পেয়ে নির্দল প্রার্থী হয়ে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। জয়ীদের অধিকাংশই আমাদেরই কর্মী।’ মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে ব্যাট করতে গিয়ে শিবানী আরও বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি স্থানীয়দের কোনো ক্ষোভ নেই। বরং তারা খুশি। তবে স্থানীয় নির্বাচনে নানা ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।’
রাজ্যের বাকি অংশের স্থানীয় নির্বাচনের ফল নিয়ে অবশ্য আশ্বস্ত হতেই পারে বিজেপি। সোমবারের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, রাজ্যের ৩০৯টি স্থানীয় পুরসভার মোট ১০ হাজার ২৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিজেপি ৪ হাজার ১৭৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস পেয়েছে ৩ হাজার ৬১৩টি আসন। কোটা, উদয়পুর, ভিলওয়ারায় বিজেপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। কংগ্রেস জয় পেয়েছে বিকানির, আজমির, পালি, ঝালওয়ার এবং টঙ্ক জেলায়।