


দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: মঙ্গলবার দিল্লিতে ঠাসা কর্মসূচি ছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। দিনভরের কর্মসূচিতে বাংলার উন্নয়ন থেকে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হল। কথা বললেন, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি, রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে। পরে সংগঠন নিয়ে আলোচনা হল রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গেও। এরই মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী এমপিদের সঙ্গে সারলেন মধ্যাহ্নভোজ সাক্ষাৎ।
এদিন সংসদ ভবনে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন শুভেন্দুবাবু। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন উত্তরবঙ্গের তিনজন সাংসদ খগেন মুর্মু, মনোজ টিগ্গা এবং বাপি হালদারকে। ছিলেন বিজেপির আরেক সাংসদ সৌমিত্র খাঁও। রাজ্যে সরকার গঠনের একেবারে গোড়া থেকেই উত্তরবঙ্গের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি করছে বিজেপি। মঙ্গলবার নির্মলা সীতারামনের কাছে তাই শুভেন্দুবাবুর উত্তরবঙ্গের তিন দলীয় সাংসদকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর কাছে আপনি কি রাজ্যের জন্য কোনো আর্থিক প্যাকেজ চেয়েছেন? এপ্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘চুরি বন্ধ হয়েছে। রাজ্যে ১২ শতাংশ রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বাংলায় উন্নয়নও দ্রুত হচ্ছে। নির্মলাজি সবই জানেন। তাই আলাদা করে আর্থিক সহযোগিতা চাওয়ার কিছু নেই।’ জানা যাচ্ছে যে, চলতি মাসের শেষে বাংলায় যাবেন নির্মলা সীতারামন। সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে রাজ্যের তাঁত শিল্পী এবং চা শ্রমিকদের নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে শুভেন্দুবাবুর।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে পিএমশ্রী প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, রাজ্যের ৬০০টি স্কুল ইতিমধ্যেই পিএমশ্রীর আওতায় এসেছে। প্রহ্লাদ যোশির কাছে আরো ২০০টি স্কুলের অন্তর্ভুক্তির আর্জিও জানানো হয়েছে। তবে এদিন সবথেকে বেশি জল্পনা তৈরি হয়েছে শমীক ভট্টাচার্যের দিল্লির সরকারি বাসভবনে শুভেন্দুবাবুর বৈঠকে। লক্ষণীয় বিষয় হল যে, ওই বৈঠকে হাজির ছিলেন বিজেপির অন্যতম সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত দলের কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল। এনসিপিআই সাংসদদের বিজেপিতে যোগদান নিয়ে চর্চা এবং এপ্রেক্ষিতে বিজেপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও সংশয়ের আবহে শমীক-শুভেন্দু সাক্ষাৎকে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, এবিষয়ে সরকার এবং পার্টির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করতে মরিয়া উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মধ্যস্থতা করতে হচ্ছে সুনীল বনসলকে। এমনকি শুভেন্দুবাবু বেরিয়ে যাওয়ার পরও প্রায় ৩০ মিনিট আলাদাভাবে শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে কথা বলেছেন সুনীল বনসল। যদিও এব্যাপারে শমীকবাবু বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে দলের কোনো দূরত্ব তৈরি হয়নি। কখনো হবেও না।’ এদিন পৃথকভাবে নির্মলার সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতিও।