


শিশির ঘোষ: যার বিয়ে তার হুঁশ নেই, পাড়াপড়শির ঘুম নেই। ফেডারেশনের অবস্থা তেমনটাই। আরও অনেক উদাহরণ মাথায় আসছে। ধরুন পাড়ায় টুর্নামেন্ট। অথচ আয়োজকরা অচল আধুলি। প্রাইজ মানি, গ্রুপ, টুর্নামেন্টের যাবতীয় নিয়ম ঠিক করছে অংশগ্রহণকারী দলগুলি। ভাবুন তো! এমনটাই হচ্ছে ফেডারেশনে। আইএসএল চালাবে ক্লাব জোট। তারাই সর্বেসর্বা। ফেডারেশন কর্তারা ভাতঘুমেই খুশি। আসলে কোনোরকমে চেয়ার আঁকড়ে থাকতে চান ওঁরা। সামনেই বিশ্বকাপ। ফেডারেশনের টাকায় কাপ দর্শন মন্দ নয়। ভারতীয় ফুটবল চুলোয় যাক। বর্তমান এআইএফএফ কর্তারা পুরোপুরি ব্যর্থ। খেলব না সংস্কৃতির আমদানি তাঁদের আমলেই। ঘরোয়া লিগের গুরুত্ব নেই, ডুরান্ড প্রি-সিজন টুর্নামন্টে। সুপার কাপ দ্বিতীয় শ্রেণির। এই মানসিকতা বেশিরভাগ ক্লাবের শিরায় শিরায় প্রবাহিত। টুর্নামেন্ট বাড়ানোর বদলে ক্লাব ফুটবলে গয়ংগচ্ছ মনোভাবই সর্বনাশের কারণ।
আইএসএল দেশের শীর্ষ লিগ। অথচ তা চালাতে জেরবার সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থা। কোনো কমার্শিয়াল পার্টনার নেই। আর্থিক হাল শোচনীয়। গত মরশুমে মাঠে বল গড়নোই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। শেষপর্যন্ত জট কাটাতে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী। প্রতি ক্লাসেই দুষ্টু কিছু ছাত্র থাকে। তাদের শাসন করতে শিক্ষককে কড়া হতে হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নরমে-গরমে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, কোনো অন্যায় আবদার চলবে না। শেষ পর্যন্ত জট কাটিয়ে শুরু হয় ফুটবল। কিন্তু ফেডারেশন কর্তাদের ঘুম ভাঙেনি। মরশুম শেষ হতেই ফের পুরনো সমস্যা মাথাচাড়া দিয়েছে। কমার্শিয়াল পার্টনার হিসাবে জিনিয়াস স্পোর্টসের সঙ্গে কথা এগিয়েও ডিল ক্লোজ করতে ব্যর্থ এআইএফএফ। আসলে শাসক দুর্বল হলে বাকিরা সুযোগ নেবেই। ক্লাব জোটের চাপে দিশাহারা ফেডারেশন। ফের মিটিংয়ের পর মিটিং। শেষে প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতি প্রফুল প্যাটেল আসরে নামলেন। ফের বৈঠক ডাকতে হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে। আাপাতত ক্লাব জোটের হাতেই আইএসএলের রাশ। নতুন কোম্পানি, কমিটি গঠনের কাজ চলছে। ফেডারেশন বার্ষিক ১৫ কোটি টাকা পেয়েই খুশি। তবে ক্লাব জোটের আসল পরীক্ষা সবে শুরু। কমিটিতে সবাইকে রাখা সম্ভব নয়। প্রত্যেককে খুশি করাও অসম্ভব। আইএসএল ক্লাব জোটের অ্যাসিড টেস্ট। রেফারির সিদ্ধান্ত বিপক্ষে গেলেই স্বার্থের সংঘাতের সম্ভাবনা উঠে আসবে। ব্যক্তিগত মত, সবার আগে ফুটবল শুরু হওয়া প্রয়োজন। তবে পরীক্ষামূলক মডেলে ভারতীয় ফুটবলের উন্নতি হবে তো?