


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: গত বছর আচমকাই তাম্রলিপ্ত মহাবিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন সৌমেন মহাপাত্র। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ওই কলেজের প্রশাসক পদে রাজ্য সরকারের পাবলিক ইনস্ট্রাকশন বিভাগের অফিসার অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়কে বসাল উচ্চ শিক্ষা দপ্তর। ২৮ ফেব্রুয়ারি কলেজের প্রিন্সিপাল আব্দুল মতিন অবসর নেন। এই মুহূর্তে কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্বভার নিয়েছেন সঞ্চিতা মুখোপাধ্যায়। আট মাস কলেজের গভর্নিং বডি না থাকার পর শেষমেশ প্রশাসক নিয়োগ হল। শনিবার প্রশাসক কলেজে এসে সঞ্চিতাদেবীকে দায়িত্বভার হস্তান্তর করান। এরফলে নানা প্রশাসনিক সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে বলে কলেজ সূত্রের দাবি। ২০২১ সালে তাম্রলিপ্ত মহাবিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি হন স্থানীয় বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্র। ওই কমিটিতে সরকার মনোনীত সদস্য হিসেবে প্রাক্তন অধ্যক্ষ মণিশঙ্কর মাইতি, প্রাক্তন বিধায়ক তথা অধ্যাপক ব্রহ্মময় নন্দ সহ মোট ন’জন ছিলেন। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। যদিও ২০২৫ সালে যেসব কলেজের বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছিল প্রতিটি কলেজেরই বোর্ডের মেয়াদ রিনিউ করে দেয় উচ্চ শিক্ষা দপ্তর। কিন্তু, ২০২৫ সালে ১ জুলাই সৌমেন মহাপাত্র ওই কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন। কলেজের অভ্যন্তরীণ কোনও সমস্যার কারণে এই ইস্তফা ছিল বলে জানা যায়।
গত কয়েক বছর পূর্ব মেদিনীপুরের ঐতিহ্যবাহী ওই কলেজে ছাত্র সংখ্যা দ্রুত কমেছে। সেইসঙ্গে ন্যাকের বিচারে কলেজের গ্রেড ‘এ’ থেকে নেমে বি প্লাস প্লাস হয়েছে। একাধিক বিষয়ে ছাত্রছাত্রী সংখ্যা নামমাত্র। যেকারণে ঐতিহ্যবাহী ওই কলেজের মান কমে যায়। নানা কারণে কলেজের গভর্নিং বডির সঙ্গে কর্তৃপক্ষের মনোমালিন্য হচ্ছিল। শেষমেশ সৌমেনবাবু সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেইমতো ইস্তফা দেন। প্রায় আট মাস কলেজের গভর্নিং বডি না থাকায় প্রশাসনিক নানা কাজে সমস্যা হচ্ছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রিন্সিপালের অবসর নেওয়ার আগের দিন প্রশাসক নিয়োগ করে উচ্চ শিক্ষা দপ্তর। এবং নতুন প্রশাসক এসে দায়িত্ব হস্তান্তর করান।
এনিয়ে তমলুকের বিধায়ক সৌমেনবাবু বলেন, গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে আমি নিজের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করতে পারিনি বলে মনে হয়েছিল। তাই আমি নিজে থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। এনিয়ে কাউকে দোষারোপ করব না। নিজেকে অযোগ্য মনে করে আমি সরে দাঁড়িয়েছি।
এনিয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল সঞ্চিতাদেবী বলেন, বেশ কয়েক মাস কলেজে গভর্নিং বডি ছিল না। সভাপতি ইস্তফা দেওয়ায় প্রশাসনিক পদ ফাঁকা ছিল। শেষমেশ উচ্চ শিক্ষা দপ্তর থেকে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। তিনিই এসে ২৮তারিখ ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্বভার হস্তান্তর করেন। এনিয়ে বিগত গভর্নিং বডির সরকার মনোনীত সদস্য ব্রহ্মময় নন্দ বলেন, সৌমেনবাবুর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা হয়েছে বলে আমাদের কাছে কোনও খবর ছিল না। তারপর থেকেই একটা অচলাবস্থা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। শেষমেশ উচ্চ শিক্ষা দপ্তর থেকে প্রশাসক নিয়োগ হল। এতে অচলাবস্থা পরিস্থিতি কাটল। এটা আমাদের সকলের কাছে ভালো খবর।