


কলম্বো: বছর দুয়েক আগের ঘটনা। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে অস্বীকার করেন ঈশান কিষান। শৃঙ্খলাজনিত কারণে ক্ষুব্ধ বিসিসিআই তাঁকে কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকেই ছেঁটে ফেলে। তারপর দীর্ঘ দু’বছরের বনবাস। কে ভেবেছিল, সেই ঈশানই নতুন রূপে ফিরে আসবেন? হয়ে উঠবেন বিশ্বকাপে পাকিস্তান বধের প্রধান নায়ক? সত্যিই অকল্পনীয়। কিন্তু যোদ্ধা ঈশান হারার আগে হারতে জানেন না। ধ্বংসস্তুপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো উত্থানে আরও একবার জানান দিলেন, ‘ফুরিয়ে যাইনি।’ সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে দাপট দেখিয়ে জাতীয় দলে জায়গা পুনরুদ্ধার করেন তিনি।
ঈশানের প্রতিভা নিয়ে সংশয়ের অবকাশ কোনওদিনই ছিল না। কিন্তু দু’বছর আগে বাইরের জগতের আকর্ষণে খেলা থেকে মনঃসংযোগ হারান তিনি। সেজন্য ভুগতেও হয়েছে কঠিন শাস্তি। বোর্ডের তরফ থেকে দেওয়া ধাক্কাটার অবশ্য প্রয়োজনও ছিল। তার নিদর্শন রবিবারের মহারণ। ম্যাচ শেষে বিধ্বংসী ওপেনার বলেন, ‘এই জয়ের সঙ্গে কোনো কিছুরই তুলনা হয় না। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয় বাকি টুর্নামেন্টে আমাদের মনোবল আরও বাড়াবে। মন্থর পিচে এদিন ব্যাট করা সহজ ছিল না। তবে মানসিক দৃঢ়তা কাজে লাগিয়ে দলকে বড় রানের পুঁজি এনে দেওয়াই ছিল লক্ষ্য। তা করতে পেরে আমি খুশি। চেষ্টা করেছি ফিল্ডিংয়ের ফাঁক খুঁজে শট নেওয়ার। জানতাম ১৬০-১৭০ রান তুলতেই হবে।’
পাকিস্তানের স্পিনের জালে শুরুতেই অভিষেক শর্মা আউট হওয়ায় অবশ্য আশঙ্কার মেঘ জমেছিল ভারতীয় ডাগ-আউটে। কিন্তু ৪০ বলে ৭৭ রান করে ভারতকে চালকের আসনে বসান ‘ম্যাচের সেরা’ ঈশানই। সেজন্য ক্যাপ্টেনের গলায় একরাশ মুগ্ধতা, ‘ঈশান এভাবেই খেলে থাকে। আর ও বাকিদের থেকে একেবারেই আলাদা। শুরুতেই উইকেট পড়ার পর কাউকে ঝড় তোলার দায়িত্ব নিতে হত। সেই কাজটাই অবিশ্বাস্যভাবে করল ঈশান। দুর্দান্ত ইনিংস।’ পাশাপাশি, সূর্য উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন বুমরাহ-হার্দিকের পেস জুটিরও।
স্কোরবোর্ড-ভারত: ঈশান বো সাইম ৭৭, অভিষেক ক আফ্রিদি বো সলমান ০, তিলক এলবিডব্লু বো সাইম ২৫, সূর্য ক সাইম বো তারিক ৩২, হার্দিক ক বাবর বো সাইম ০, শিবম রান আউট ২৭, রিঙ্কু অপরাজিত ১১, অক্ষর ক সাইম বো আফ্রিদি ০, অতিরিক্ত ৩, মোট ১৭৫-৭। উইকেট পতন: ১-১, ২-৮৮, ৩-১২৬, ৪-১২৬, ৫-১৫৯, ৬-১৭৫, ৭-১৭৫। বোলিং: সলমান ২-০-১০-১, আফ্রিদি ২-০-৩১-১, সাইম ৪-০-২৫-৩, আবরার ৩-০-৩৮-০, শাদাব ১-০-১৭-০, নওয়াজ ৪-০-২৮-০, তারিক ৪-০-২৪-১।
পাকিস্তান: শাহিবজাদা ক রিঙ্কু বো হার্দিক ০, সাইম এলবিডব্লু বো বুমরাহ ৬, সলমান ক হার্দিক বো বুমরাহ ৪, বাবর বো অক্ষর ৫, উসমান স্টাঃ ঈশান বো অক্ষর ৪৪, শাদাব ক শিবম বো তিলক ১৪, নওয়াজ ক শিবম বো কুলদীপ ৪, ফাহিম ক রিঙ্কু বো বরুণ ১০, আফ্রিদি অপরাজিত ২৩, আবরার এলবিডব্লু বো বরুণ ০, তারিক বো হার্দিক ০, অতিরিক্ত ৪, মোট (১৮ ওভারে) ১১৪। উইকেট পতন: ১-০, ২-৬, ৩-১৩, ৪-৩৪, ৫-৭৩, ৬-৭৮, ৭-৭৮, ৮-৯৭, ৯-৯৭, ১০-১১৪। বোলিং: হার্দিক ৩-১-১৬-২, বুমরাহ ২-০-১৭-২, অক্ষর ৪-০-২৯-২, বরুণ ৩-০-১৭-২, কুলদীপ ৩-০-১৪-১, তিলক ২-০-১১-১, রিঙ্কু ১-০-৯-০।
ভারত জয়ী ৬১ রানে ম্যাচের সেরা ঈশান