


নয়াদিল্লি: যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশির এমন অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় গোটা দেশ। প্রশ্ন উঠেছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে মান্যতা না দিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কি একা যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন? আইন অবশ্য অন্য কথা বলছে। সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের অধীনে নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এতে রয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার। পদমর্যাদার দিক থেকে তিনজনই সমান। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার অবশ্য ‘সমানদের মধ্যে প্রথম’। কিন্তু তিনি এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। আইন অনুযায়ী, ভারতের নির্বাচন কমিশনের সমস্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে হওয়া দরকার। তিন সদস্য বিশিষ্ট সংস্থায় কোনো একজনের মতামতের ভিত্তিতে সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্ত বাতিল করা বা উপেক্ষার কোনো আইনি সংস্থান নেই।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশন নিয়োগ সংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইনের ১৮ (১) ধারা অনুসারে, সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কমিশনের কাজকর্ম পরিচালিত হতে পারে। আইনের ১৮(২) ধারায় বলা হয়েছে, কমিশনের কাজকর্ম যত দূর সম্ভব সর্বসম্মতভাবে পরিচালিত হবে। যদি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়, তখন বিষয়টিতে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হবে। অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে নানান ইস্যুতে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। ২০০৯ সালে তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এন গোপালস্বামী পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগে অপর কমিশনার প্রয়াত নবীন চাওলাকে অপসারণের সুপারিশ করেছিলেন। যদিও সরকার সেই সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করে এবং পরবর্তীতে চাওলা প্রধান নির্বাচন কমিশনার হন। ১৯৯৫ সালের টিএন শেষন বনাম কেন্দ্র ও অন্যান্যদের মামলায় যৌথ সিদ্ধান্তের পক্ষেই রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ। রায়ে বলা হয়েছিল, ঐকমত্যের উপরই নজর দেওয়া উচিত কমিশনের। এক্ষেত্রে মতবিরোধ দেখা দিলে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতই বহাল থাকবে। আবার ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়, শীর্ষ বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল। তৎকালীন নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসা তাঁদের ‘ক্লিন চিট’ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। বাকিরা তাঁর সঙ্গে একমত ছিলেন না।
তিনি দাবি করেছিলেন, চূড়ান্ত নির্দেশে যেন তাঁর ভিন্নমতের বিষয়টিও নথিবদ্ধ করা হয়। কিন্তু এই ধরনের পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে ভিন্নমত সংযুক্ত করার কোনো সংস্থান না থাকায়, সুনীল অরোরার নেতৃত্বাধীন কমিশন সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে। পরবর্তীতে লাভাসা এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে (এডিবি) যোগ দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন।