


নয়াদিল্লি: জ্বালানি তেল আমদানির জন্য হরমুজ প্রণালীর উপর নির্ভরতা কাটতে চলেছে ভারতের? সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্তে এমনই সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কারণ, অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ বা ওপেক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আরব আমিরশাহি প্রশাসন। কত পরিমাণ জ্বালানি উত্তোলন করা হবে বা রপ্তানি করা হবে ইত্যাদি বিষয়গুলি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে এই সংগঠন। আর এই সংগঠনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রয়েছে সৌদি আরবের। এতদিন ওপেকের সদস্য হওয়ার কারণে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য হত আরব আমিরশাহিও। কিন্তু ১ মে থেকে আর সেই বাধ্যবাধকতা থাকছে না। এর ফলে ফুজাইরা পাইপলাইন দিয়ে বিশ্বে তেল রপ্তানি করতে পারবে আমিরশাহি সরকার। ফলে আর হরমুজের উপর নির্ভর করতে হবে না তাদের। আমিরশাহির সঙ্গে জ্বালানি সংক্রান্ত বিষয়ে ভারতের আগে থেকেই কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। তাই ফুজাইরা পাইপলাইন দিয়ে তেল সরবরাহের সুবিধা পাবে দিল্লিও। তেল আমদানির জন্য ভারতকেও হরমুজ প্রণালীর উপর নির্ভর করতে হবে না। বর্তমানে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির ৯ থেকে ১০ শতাংশ আসে আমিরশাহি থেকে। আরও ৩০০ কোটি ডলারের তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির জন্যও দুই দেশের চুক্তি রয়েছে।
কিন্তু ফুজাইরা পাইপলাইন কীভাবে কাজ করবে? আবু ধাবির হাবশান তৈল ক্ষেত্র থেকে শুরু হয়ে প্রায় চারশো কিলোমিটার দূরে ওমান উপসাগরের ফুজাইরা বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত এই পাইপলাইন। ৪০০ কোটি ডলার খরচ করে ২০১২ সালে ৪৮ ইঞ্চি ব্যাসের এই পাইপলাইন তৈরি করেছিল আরব আমিরশাহি। এই পাইপলাইন প্রতিদিন ১৮ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করতে সক্ষম। এর পুরোটাই গিয়েছে আরব আমিরশাহির ভূখণ্ডের ভিতর দিয়ে। ফলে অন্য দেশের উপর নির্ভরশীলতার বিষয়ও নেই। বিশ্ববাজারে জ্বালানির চাহিদা বজায় রাখার জন্য দেশগুলির তেল উত্তোলন সীমা বেঁধে দিয়েছে ওপেক। ফলে প্রতিদিন ৩৪ লক্ষ ব্যারেলের বেশি তেল উত্তোলন করতে পারে না আরব আমিরশাহি। কিন্তু দেশটির দাবি, প্রতিদিন প্রায় ৫০ লক্ষ ব্যারেল তেল উত্তোলন করতে পারে তারা। তাই ওপেকের সঙ্গে ৬০ বছরের সম্পর্ক তারা ছেদ করেছে। তেল উত্তোলনের বিধিনিষেধ নিয়ে সৌদি আরবের ‘দাদাগিরি’ আর মানবে না বলে স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছে আমিরশাহি। তবে, এই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজনৈতিক কারণও রয়েছে। সম্প্রতি, পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করতে উদ্যোগী হয়েছে সৌদি আরব। এছাড়া পশ্চিম এশিয়ায় হামলার জন্য ইরানের জবাব না চাওয়ায় ইসলামাবাদের উপর ক্ষুব্ধ আমিরশাহি। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকেও ভালো চোখে দেখছে না তারা।