


অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: ব্রাজিলের কুরিতিবা থেকে কলকাতা! দূরত্বটা নেহাতই কম নয়। কিন্তু ফুটবলের টান যে দূরত্ব মানে না! ব্রাজিলের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে প্রিয় দলকে সামনে থেকে দেখার নেশাই যেন পৃথিবীর মানচিত্রকে ছোট করে দেয়। আর সেই টানেই স্পেন থেকে কাতার, ইতালি কিংবা ইন্ডিয়ায়। কুলীন ফুটবল খেলিয়ে দেশ হিসাবে ভারতের পরিচয় হয়তো নেই, কিন্তু তাতে কী! মানচিত্র খুঁজে বিমানের টিকিট কেটে ফেলতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি তাঁরা। যুবভারতীতে গলা ফাটাতে ভারতীয় ফুটবলের মক্কায় হাজির টমাস সাবায়া এবং জুলিয়ান।
ক্রিকেট মাঠে ভারতের সুধীর কিংবা পাকিস্তানের ‘চাচা’কে চেনেন না, এমন ক্রিকেটপ্রেমী খুঁজে পাওয়া কঠিন। ব্রাজিলের গ্যালারিতেও তেমনই এক পরিচিত মুখ টমাস। পেশায় ফুটবল ইনফ্লুয়েন্সার। সেলেকাওদের নিয়ে তাঁর ইনস্টাগ্রাম পেজে লাখো ভিউয়ার। পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ীদের সমর্থনে ইতিমধ্যেই ৬২টি দেশ ঘুরে ফেলেছেন সাম্পাওলির বাসিন্দা। সাক্ষী থেকেছেন পাঁচটি বিশ্বকাপেরও। কিন্তু ভারতের মাটিতে প্রথমবার পা রেখেছেন। যদিও এ দেশের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র একেবারেই নতুন নয়। বরং ভারতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গল্পটা বেশ পুরানো। সেকথা নিজের মুখেই জানালেন টমাস। ‘দলের সঙ্গে সব জায়গায় যাওয়াই আমার নেশা। ভারতে প্রীতি ম্যাচের খবর পেয়েই তাই টিকিট কেটে তৈরি হয়ে গিয়েছিলাম। আমার বাবা কাজের সূত্রে বহুবার এ দেশে এসেছেন। তাঁর পরিচিতি দিল্লিতে। ম্যাচ দেখে সেখানেই যাব। কিন্তু আগে যুবভারতীতে সাম্বার ছন্দ দেখার অপেক্ষায়।’
জুলিয়ানের গল্পটা অবশ্য একটু আলাদা। তাঁর স্বামী রোজারিও বরোদায় চাকরি করেন। সেলেকাওদের ভারত সফরের খবর কানে আসতেই চোখ চকচক করে ওঠে রিও’র জুলিয়ানের। মেয়ে মাইজাকে সঙ্গে নিয়ে উঠে পড়েন বিমানে। গন্তব্য কলকাতা। শুধু ভারত নয়, সাম্বা ফুটবলের টানে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন তাঁরা। বিশ্বকাপের আসরেও হাজির থেকেছেন বহুবার। চলতি বছর মার্কিন মুলুকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। শেষ পর্যন্ত তা হয়ে ওঠেনি। আক্ষেপ একটাই, ‘নেইমার যে কেন এত তাড়াতাড়ি অবসর নিয়ে নিলেন!’