


জেরুজালেম, ৪ অক্টোবর: ক্যাপটেন স্মিত মচ্ছার। নিজের জীবনের পরোয়ানা না করে শতাধিক যাত্রীর জীবন বাঁচাতে একাই দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। কুঠারের আঘাতে শরীর রক্তাক্ত হলেও এক মুহূর্তের জন্যও পিছু হটেননি। তাঁর অসীম সাহস ও আত্মত্যাগের সেই ঘটনা গত তিনদিন ধরে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বে। চর্চার কেন্দ্রে এখন এই 'বীর' মানুষটিই। এবার তাঁর সেই বীরত্ব পেল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ব্যক্তিগতভাবে ক্যাপ্টেন স্মিতের সঙ্গে ফোনে কথা বলে তাঁকে ইজরায়েলের আসন্ন স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মান জানানোর কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।
ফোনালাপে ক্যাপ্টেন স্মিতের সাহস ও উপস্থিত বুদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু। তাঁকে ভারত, ইজরায়েল এবং গোটা বিশ্বের ‘নায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দ্রুত এবং সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন তিনি। স্মিতের পরিবারের প্রতিও শুভেচ্ছা জানান নেতানিয়াহু। ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যগতভাবে সে দেশের নাগরিকদেরই আনুষ্ঠানিক প্রদীপ বা ‘সেরিমোনিয়াল ফ্লেম’ জ্বালানোর সম্মান দেওয়া হয়। সেই প্রথার বাইরে গিয়ে একজন ভারতীয় পাইলটকে এই বিশেষ দায়িত্ব পালনের আমন্ত্রণ জানানোকে অত্যন্ত বিরল এবং তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে আবু ধাবিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। হামলার সময় ককপিটে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে উঠলেও তিনি অসাধারণ সাহস এবং ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দেন। তাঁর তৎপরতাতেই বিমানে থাকা শতাধিক যাত্রীর জীবন রক্ষা পায় বলে জানা গিয়েছে। ক্যাপ্টেন স্মিতের এই ভূমিকার জন্যই তাঁকে আন্তর্জাতিক স্তরে সম্মান জানানোর উদ্যোগ নিয়েছে ইজরায়েল। নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণ সেই স্বীকৃতিকে আরও বিশেষ মাত্রা দিয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং ক্যাপ্টেন স্মিতকে একসঙ্গে আমন্ত্রণ জানানোর ঘটনাও ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।