


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ফের অবৈধ পাথর খাদানে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া মুরারইয়ের পাথর শিল্পাঞ্চলে একটি অবৈধ খাদানে ধস নামায় মৃত্যু হল তিন শ্রমিকের। ঘটনায় জখম হয়েছেন আরও প্রায় দশজন শ্রমিক। যাঁদের মধ্যে সাতজনকে রামপুরহাট মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃত শ্রমিকদের নাম বাবু শেখ (৩৭), আমির শেখ (১৯) ও রঘুনাথ সাহা (৩৮)। প্রথম দুজনের বাড়ি মুরারই থানার বনরামপুর গ্রামে। অপরজন ঝাড়খণ্ডের মহেশপুর থানার কার্তিকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খাদানটি একশো ফুটেরও বেশি গভীর। সোমবার দুপুরে আচমকা খাদানের ছাদ থেকে ধস নামতে শুরু করে। সেই সময়ে নীচে জনা ১৪ শ্রমিক কাজ করছিলেন। খসে পড়া পাথর ও মাটিতে চাপা পড়েন কয়েকজন শ্রমিক। বাকিরা ভেঙে পড়া পাথরের চাঁইয়ে জখম হন। নিমেষের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়তেই খাদানে কাছে এলাকাবাসী ও শ্রমিকরা ভিড় জমান। যদিও অভিযোগ, উদ্ধারকাজ শুরু করতে অনেক সময় লেগে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। পরে দু’টি জেসিবি মেশিন দিয়ে উদ্ধার শুরু হয়। পাথর ও মাটি সরিয়ে উদ্ধার করা হয় তিন শ্রমিকের নিথর দেহ। তাঁদের মুরারই গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বাকি সাত জখম শ্রমিককে মুরারই হাসপাতাল থেকে রামপুরহাট মেডিকেলে রেফার করা হয়। জখমদের কারও কোমর ভেঙে গিয়েছে, কারও মাথা ফেটে গিয়েছে, কারও হাত-পা ভেঙেছে। জখম ঝাড়খণ্ডের শ্রমিক মনো মশাই বলেন, আমরা নীচে ১৪ জন কাজ করছিলাম। আচমকা মাটি ও পাথরের ধস নামে। আমরা কয়েকজন চাপা পড়ে গিয়েছিলাম। আমাকে কোনোরকমে টেনে বের করলেও বাকিদের তখনও উদ্ধার করা যায়নি। জখম অসীম কোনাই, সেন্টু মালরা বলেন, হঠাৎ ধস নামায় কয়েকজন চাপা পড়ে যায়। আমরা দূরে পালিয়ে যাওয়ার সময়ে পাথর ছিটকে গায়ে লাগে। তাতে জখম হই। বাকি জখমদের খাদান মালিকের এক আত্মীয়ের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা করানো হয়। মৃত রঘুনাথের ভাই প্রসেনজিৎ সাহা বলেন, খাদানটি সেরাজুল ইসলাম খানের। জানা গিয়েছে, বীরভূম জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ সেরাজুল ইসলাম খান তাঁর নিজস্ব জমিতে অবৈধভাবে পাথর খাদান করেছিলেন। এই নিয়ে একটি মামলাও চলছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত খাদানটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই নির্দেশ অমান্য করে প্রশাসনের নাকের ডগায় চুটিয়ে কারবার চালাচ্ছিলেন ওই তৃণমূল নেতা। তবে এ নিয়ে অন্যান্য পাথর ব্যবসায়ীরা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। সেরাজুল ইসলাম বলেন, আমার খাদানে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমি বাইরে রয়েছি। খোঁজ নিয়ে দেখছি।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর মাসে নলহাটির পাথর শিল্পাঞ্চল বাহাদুরপুর ও ভোলা গ্রামের মাঝে অবৈধ পাথর খাদানে ধস নামায় মৃত্যু হয় আট শ্রমিকের। জখম হন চারজন শ্রমিক। অভিযোগ, পাথর শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন থাকলেও প্রশাসন উদাসীন। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এই শিল্পাঞ্চলে একটিও বৈধ পাথর খাদান নেই। অবৈধ কারবার করে ফুলেফেঁপে উঠছে কারবারিরা। মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আর অর্থ ছড়িয়েই পুরো শিল্পাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে তারা। নিশ্চুপ প্রশাসন।
এ ব্যাপারে এডিএম (এলআর) শুভম আগরওয়ালকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ঘটনার রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।