


নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বৃষ্টি-ধসে চরম বিপর্যস্ত উত্তর সিকিম। এই পরিস্থিতিতে পর্যটকরা যাতে লাচেন, লাচুং না আসেন, বৃহস্পতিবার প্রথমে সেই পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল ওই রাজ্যের প্রশাসনের তরফে। যদিও পর্যটনে বিপুল ক্ষতির আশঙ্কায় এদিন সন্ধ্যায় ফের নয়া নির্দেশিকা জারি করে সিকিম প্রশাসন। তাতে শর্ত চাপিয়ে আজ, শুক্রবার থেকে ফের উত্তর সিকিমের জন্য ট্যুরিস্ট পারমিট চালুর কথা জানানো হয়েছে।
সিকিম প্রশাসনের নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, গ্যাংটক থেকে চুংথাং যাওয়ার পথে পর্যটকদের কোনও গাড়ি দুপুর দু’টোর পর ফিডাং সেতু পেরতে পারবে না। একইভাবে চুংথাং থেকে যাঁরা গ্যাংটক ফিরবেন, তাঁদের বিকেল তিনটের মধ্যে থেং চেকপোস্ট পার করতে হবে। একইসঙ্গে এতদিন এক রাত উত্তর সিকিমে থাকার জন্য ট্যুরিস্ট পারমিট মিলত। কিন্তু এদিন সেরাজ্যের প্রশাসনের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, শুধুমাত্র দু’রাত তিনদিনের জন্য উত্তর সিকিমের পারমিট ইস্যু করা হবে। রাস্তায় যাতে পর্যটকদের ভিড় কম হয় এবং বিকেলের পর যাতে ধস কবলিত ওই পাহাড়ি পথে পর্যটকদের গাড়ি না থাকে, সেজন্যই এই নির্দেশিকা বলে মনে করছেন ট্যুর অপারেটররা।
বর্তমানে সিকিমে বহু পর্যটক রয়েছেন। তাঁদের বেশিরভাগ বাঙালি। অধিকাংশেরই উত্তর সিকিমে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁদের অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে সেখানে যেতে চাইছেন না। ট্যুর অপারেটরদের বক্তব্য, ২০২৩ সালে হ্রদ বিপর্যয়ের পর থেকেই উত্তর সিকিমের পর্যটন মুখ থুবড়ে পড়েছে। সিকিমে যাঁরা বেড়াতে আসেন, তাঁদের অধিকাংশের অন্যতম আকর্ষণ লাচেন, লাচুং, গুরুদোংমা ও ইয়ুমথাং। হ্রদ বিপর্যয়ের পর থেকে লাচেন ও গুরুদোংমা কার্যত বন্ধ। লাচুং ও ইয়ুমথাংয়ে পর্যটকরা কোনওমতে যেতে পারছিলেন। তাও ধসের জেরে গত দু’দিন ট্যুরিস্ট পারমিট দেওয়া হয়নি। এদিন সন্ধ্যায় নয়া নির্দেশিকায় ফের পারমিট ইস্যু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু পর্যটকরা ঝুঁকি নিয়ে আদৌও যেতে চাইবেন কি না, সেটাই বড় বিষয়।
নাগাড়ে ভারী বৃষ্টি চলছিল উত্তর সিকিমে। এদিন বৃষ্টির মাত্রা একটু কমলেও সেখানকার বহু রাস্তা এখনও ধসে অবরুদ্ধ। অনেক জায়গায় রাস্তার চিহ্নটুকু নেই। মঙ্গন থেকে চুংথাং ভায়া টুং নাগা নতুন রাস্তা থেকে ধস সরানো যায়নি। ফলে ওই রাস্তা দিয়ে বন্ধ যান চলাচল। ধস সরিয়ে বিকল্প কয়েকটি রাস্তা দিয়ে উত্তর সিকিমে আটকে পড়া পর্যটকদের বেশিরভাগকে গ্যাংটকে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে দাবি সেরাজ্যের প্রশাসনের।
সিকিমের আবহাওয়া দপ্তরের আধিকারিক গোপীনাথ রাহা জানিয়েছেন, বৃষ্টি চললেও আগামী কয়েকদিন উত্তর সিকিমে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস নেই। সিকিমের সড়ক বিভাগের কর্তা আর এল তেওয়াতিয়া মঙ্গনের জেলাশাসককে অবশ্য লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি, তাতে চুংথাংয়ে পর্যটকদের যেতে না দেওয়াই ভালো।