


সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: ভোট মিটে গিয়েছে বৃহস্পতিবার। পশ্চিম বর্ধমান জেলার ন’টি বিধানসভার ৮৫ জন প্রার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিয়েছেন ১৭ লক্ষ ৭৪ হাজার ৯৬০ জন ভোটার। তাঁদের রায় বন্দি ইভিএম রাখা আসানসোল ও দুর্গাপুরে। কমিশনের ভাষায় স্ট্রংরুম। এই দুই জায়গার সামনে উৎসবের মেজাজ তৃণমূল শিবিরের। সিসি ক্যামেরার মনিটরের দিকে নজর দলীয় কর্মীদের। তাঁদের উৎসাহ বাড়াতে হাজির হচ্ছেন জেলা সভাপতি থেকে হেভিওয়েট প্রার্থীরা। চলছে আড্ডা, মসকরা। অন্যদিকে, গেরুয়া শিবিরের ছবিটা বেশ অন্যরকম। কোনো হেভিওয়েট নেতা কিংবা প্রার্থীদের দেখা নেই। দলের কর্মীরা অনেকটাই বিমর্ষ। বিজেপি সূত্রে খবর, গণনা কেন্দ্রে স্নায়ুর চাপ সামলানো লড়াকু কাউন্টিং এজেন্ট খুঁজতেই প্রাণপাত করছেন দলের নেতারা। সব ভরসার ভার ছেড়ে তাঁরা ছেড়ে দিয়েছেন কমিশনের কাঁধে।
বিজেপি জেলা সহ-সভাপতি প্রশান্ত চক্রবর্তী মঙ্গলবার তাই বলছিলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। স্ট্রংরুমের পাহারায় রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তৃণমূল নেতারা ফটোশ্যুট করতে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য লড়াকু কাউন্টিং এজেন্ট দেওয়া। যাঁরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে। এবার আর ২০২১ সালের পুনরাবৃত্তি হবে না।’
শিল্পাঞ্চলে গণনা কেন্দ্রের সামনে শেষবার গেরুয়া আবির উড়েছিল ২০১৯ সালে। ওই বছর ছিল লোকসভা নির্বাচন। দু’টি আসনেই বিজেপি জয়লাভ করেছিল। তারপরই থেকেই বিজেপির উত্থানের লেখচিত্র নিম্নমুখী। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জেলার সিংহভাগ আসনে জেতে তৃণমূল। তিনটি আসন পায় বিজেপি। ২০২২ সালের আসানসোল লোকসভার উপনির্বাচনে ৩ লক্ষ ৩ হাজার ভোটে জয়ী হন তৃণমূল প্রার্থী শত্রুঘ্ন সিনহা। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও আসানসোল ও বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা আসন জয়লাভ করে রাজ্যের শাসক শিবির। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, সকাল থেকে তৃণমূল প্রার্থীরা লিড নিতে শুরু করেন। দুপুরের আগেই বিজেপির কাউন্টিং এজেন্টরা ছেড়ে পালিয়ে যান। ২০২১ সালেও সেই চিত্র দেখা গিয়েছিল। এই অবস্থায় শেষ পর্যন্ত কাউন্টিং হলে টিকে থাকবে এমন কর্মীদের খুঁজছে গেরুয়া শিবির। যদিও কাজটি মোটেও সহজ নয়। বিজেপি সূত্রে খবর, এবার ঘাসফুল শিবির স্পষ্ট ভাবে ডিজে বাজানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। তাই ফলাফলে ট্রেন্ড একবার তৃণমূল শিবিরের দিকে ঝুঁকলে কাউন্টিং এজেন্টদের লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখাই চ্যালেঞ্জ। সেটাই বেশি ভাবাচ্ছে গেরুয়া শিবিরের নেতারা।
অন্যদিকে, দিন যত ফলাফলের দিকে গড়াচ্ছে তৃণমূল শিবিরের আত্মবিশ্বাস ততই বাড়ছে। অসমর্থিত একাধিক বুথ ফেরত সমীক্ষা তৃণমূলকে এগিয়ে রেখেছে। এটাও তৃণমূল নেতাদের আত্মবিশ্বাসের বড় কারণ। তাই স্ট্র্যংরুমের সামনে কর্মীদের খোশ মেজাজে দেখা যাচ্ছে। আসানসোল উত্তর, আসানসোল দক্ষিণ, জামুড়িয়া, বারাবনি, কুলটি ও রানিগঞ্জ এই ছ’টি আসনের ভোট গণনা হবে আসানসোল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে। সেখানেই স্ট্রংরুমে রাখা হয়েছে ইভিএমগুলি। মঙ্গলবার সেখানে হাজির হন আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মলয় ঘটক। কর্মীদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান তিনি। প্রায়ই আসছেন রানিগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী কালোবরণ মণ্ডলও।
দুর্গাপুর পূর্ব, দুর্গাপুর পশ্চিম ও পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গণনা হবে দুর্গাপুর গভর্নমেন্ট কলেজে। সেখানেই বিভিন্ন সময়ে আসছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, দুর্গাপুর পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী কবি দত্ত। কর্মীরাও চার্জ হয়ে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি প্রার্থী, নেতাদের দেখা মিলছে না। ভোটপর্ব মিটে যাওয়ার পর একদিনই আসানসোল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে এসেছিলেন অগ্নিমিত্রা পল। সিসি ক্যামেরায় কিছু বাক্স সরানোর খবর পেয়ে হাজির হয়েছিলেন বারাবনির বিজেপি প্রার্থী অরিজিৎ রায়। নরেন্দ্রনাথবাবু বলেন, ‘পরাজয় নিশ্চিত বুঝে গিয়েছেন বিজেপি প্রার্থীরা। তাও কর্মীদের ভুল বুঝিয়ে কাউন্টিং এজেন্ট করার চেষ্টা করছেন।’