


শিবাজী চক্রবর্তী,কলকাতা: বরাবরই লাজুক। সাত চড়ে রা নেই। তবে পায়ে বল পড়লেই ‘পোলা যেন আগুনের গোলা।’ সাইলো মালসোয়ামাটুলুঙ্গা ময়দানের মিজো স্নাইপার। টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমি থেকে মিজো তরুণকে রিক্রুট করেছিল ইস্ট বেঙ্গল। প্রয়াত সুভাষ ভৌমিক জমানাতেই টুলুঙ্গার ‘মামা’-য় বিবর্তন। উইং থেকে ঘাড় নীচু স্প্রিন্টে ফালাফালা প্রতিপক্ষ। মোক্ষম সময়ে ছবির মতো আউটসাইড ডজ। টুলুঙ্গার স্মৃতি টাটকা ঘেরা মাঠের গ্যালারিতে। ভারতীয় ফুটবলে মিজোরামের ফেস টুলুঙ্গাই। লালরিনডিকা রালতে, জেজে থেকে আজকের আপুইয়া কিংবা এডমুন্ড— বহু তারকার আঁতুরঘর মিজোরাম। কিন্তু টুলুঙ্গাই পিতামহ ভীষ্ম। ভারতীয় ফুটবলে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করে ‘হল অব ফেমে’ জায়গা দিচ্ছে মিজো সরকার। টুলুঙ্গার মূর্তি শোভা পাবে মিজোরামের পাহাড়ে। জেজের মূর্তিও তৈরি হচ্ছে। পরবর্তী প্রজন্মকে ফুটবলে উৎসাহিত করতেই অভিনব পদক্ষেপ। মুঠোফোনে টুলুঙ্গা বললেন, ‘আচ্ছা লাগতা হ্যায়। আমি গর্বিত। সত্যিই অনন্য সম্মান। মানুষের ভালোবাসা আমার প্রাপ্তি। তবে কলকাতাকে কখনো ভুলব না। ময়দান না থাকলে হয়তো হারিয়েই যেতাম।’
দু’দশকের বর্ণময় ক্লাব কেরিয়ার টুলুঙ্গার। জাতীয় লিগ, আশিয়ান কাপ জিতেছেন লাল-হলুদ জার্সিতে। সালগাওকর, মোহন বাগানের পর ইউনাইটেডেও কাটিয়েছেন দীর্ঘদিন। অবসরের পর মামা এখন পুরোদস্তুর কোচ। রিলায়েন্সের গ্রাসরুট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট সামলাচ্ছেন দারুণভাবে। বয়সভিত্তিক একাধিক দলে কোচ টুলুঙ্গা। শুধু আইজলেই ট্রেনিং নেয় প্রায় ৪০০ খুদে। কোলাসিব, লুংলেই কার্যত ফুটবল হাব। সাতসকালে কিটব্যাগ কাঁধে ভিড় জমায় মিজো কিশোরের দল। টুলুঙ্গার মন্তব্য, ‘পাহাড়ে প্রতিভার অভাব নেই। সঠিক পরিচর্যা পেলে উপকৃত হবে ভারতীয় ফুটবল।’ শুধু টুলুঙ্গাই নয়, বাকিদেরও কাজে লাগাতে চাইছে মিজোরাম। ইতিমধ্যেই গ্রাসরুট ডেভেলপমেন্টের প্রজেক্ট ম্যানেজার হয়েছেন লালরিকনডিকা। চার্চিল ব্রাদার্সের পর ইস্ট বেঙ্গলে দীর্ঘদিন খেলেছেন বাঁ পায়ের এই ফুটবলার। টুলুঙ্গার সম্মানে তিনিও আপ্লুত। মুঠোফোনে ডিকার মন্তব্য, ‘ফুটবলার হিসাবে আনন্দের দিন। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও উৎসাহিত হবে।’