


সন্দীপ বর্মন, মাথাভাঙা: মাথাভাঙা ও শীতলকুচিতে অভিজ্ঞ দুই প্রার্থীকে দাঁড় করিয়েছে সিপিএম। দু’জনই ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করেছিলেন সিপিএমের প্রার্থী হিসেবে। ভোট শতাংশের বিচারে দু’জনই ছিলেন দ্বিতীয় স্থানে। যদিও পরবর্তীতে বামেরা ভোট শতাংশের নিরিখে তৃতীয় স্থানে চলে যায়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দু’টি আসনেই জয়লাভ করে বিজেপি। দ্বিতীয় স্থানে ছিল তৃণমূল। বামেরা তৃতীয় স্থানে চলে যায়। প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে বামেরা যথেষ্ট পিছিয়ে ছিল। এবারও এই দু’টি কেন্দ্রে লড়াই হবে মূলত তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। কিন্তু এবছর দুই প্রার্থীই চেষ্টা করছেন বামেদের ভোট শতাংশ বাড়িয়ে দলকে প্রাসঙ্গিক করে তুলতে। প্রার্থীরা বলছেন, সবে তো প্রচার শুরু। মানুষের সাড়াও মিলছে ব্যাপক।
এক সময় সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি ছিল মাথাভাঙা ও শীতলকুচি। ২০১১ সালে পালাবদলের সময়েই সিপিএম চলে যায় দ্বিতীয় স্থানে। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মাথাভাঙা কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছিলেন পেশায় প্রধান শিক্ষক খগেন বর্মন, শীতলকুচি কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছিলেন পেশায় আইনজীবী নমদিপ্তী অধিকারী। দু’জনই ছিলেন দ্বিতীয় স্থানে। যদিও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দু’জনের কেউ টিকিট পাননি। ভোট শতাংশও অনেকটাই কমে যায় বামেদের। এবার ফের এই দু’জনকেই দুই কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে। নাম ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছে জোর প্রচার।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খগেনবাবু ও নমদিপ্তী অধিকারী দলের পরিচিত মুখ। নিজেরাও বিধানসভা এলাকা হাতের তালুর মতো চেনেন। নীচুতলার কর্মীদের নাম ধরে চেনেন তাঁরা। ইতিমধ্যে দু’জনই নিজের বিধানসভা এলাকাগুলিতে জোর প্রচার শুরু করেছেন। বৃহস্পতিবার শীতলকুচির সিপিএম প্রার্থী নমদিপ্তী অধিকারী তাঁর বিধানসভা এলাকায় হওয়া অষ্টমী স্নানের মেলাগুলিতে গিয়েছেন। মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ভোট শতাংশ বৃদ্ধি তো হবেই। প্রচারে বেরিয়ে আমরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছি। এবার বামেদের পক্ষে রয়েছে মানুষ। আমরা আশা করছি, মানুষ আমাদের ভোট দিয়ে জয়ী করবে।
অপরদিকে, এদিন নেতাকর্মী ও দলীয় নির্বাচনি কমিটির সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন মাথাভাঙার প্রার্থী খগেন বর্মন। এদিন দিনভর নিশিগঞ্জে ছিলেন তিনি। খগেনবাবু বলেন, ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে আমাকে প্রার্থী করা হয়। তখন আমি প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলাম। এখন আমি অবসর নিয়েছি। দলের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত। গোটা বিধানসভা এলাকা আমার পরিচিত। ২০১৬ সালের তুলনায় আমাদের সাংগঠনিক ভিত কিছুটা নড়বড়ে হয়েছে ঠিকই তবে আমি এবার প্রচারে মানুষের ভালো সাড়া পাচ্ছি। ভোট শতাংশ বৃদ্ধির সঙ্গেই আমরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।