


নয়াদিল্লি: প্রতিবাদী পড়ুয়াদের সুবিধামতো যে কোনো সময় আলোচনায় প্রস্তুত। গতকাল থেকে চারবার গিয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব। প্রবল চাপে কোণঠাসা কেন্দ্রের তরফে বৃহস্পতিবার ফের নমনীয় বার্তা এল। তবে আলোচনা কোথায় হবে, তা নিয়ে দু’পক্ষের মতান্তর অব্যাহত। সরকার চাইছে, আন্দোলনরত পড়ুয়াদের প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার বাসভবন বা তাঁর দপ্তরে আসুন। সেখানেই কথা হবে। যদিও এই প্রস্তাব পত্রপাঠ খারিজ করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতৃত্ব। তাঁদের কড়া বার্তা, যন্তরমন্তর বা তার কাছাকাছি কোনো নিরপেক্ষ স্থানে আসুন। সেখানেই হবে আলোচনা। দু’পক্ষের এই চাপানউতোরের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের মঙ্গলবারের বিক্ষোভকে এদিন ‘অবিবেচক’ বলে সমালোচনা করেছেন অনশনরত সোনাম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। তাঁর মতে, বিরোধী নেতাদের উচিত ছিল যন্তরমন্তরের প্রতিবাদে অংশ নেওয়া। আংমোর অভিযোগ, ‘রাজনীতিবিদরা এখন ওয়াংচুক এবং তার খ্যাতিকে ব্যবহার করছেন। কিন্তু জনসাধারণকে আর বোকা বানানো যাবে না।’ আন্দোলন কংগ্রেসের হাতে ‘হাইজ্যাক’ হওয়ার আশঙ্কা থেকে গীতাঞ্জলির এই মন্তব্য বলে মনে করছে রাজনৈতিক শিবির।
বেকায়দায় পড়ে সরকার যে এখন ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় মরিয়া, এদিন তার ইঙ্গিত মিলেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের বক্তব্যে। তিনি বলেছেন,‘ সরকার গতকাল বিকেল থেকে আলোচনার জন্য চারটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে... সরকার আপনাদের সুবিধামতো যেকোনো সময়ে সকল বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। আলোচনার মাধ্যমেই ধীরে ধীরে সমাধানের দিকে এগনো যাবে। আমি বিনীতভাবে আপনাদের সকলকে আলোচনায় আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’ এই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনার স্থান নিয়ে শর্ত জানানোর পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো এফআইআর দায়ের বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার ব্যাপারে সরকারের কাছে নিশ্চয়তা চেয়েছে সিজেপি।