


মুম্বই: পরিসংখ্যান কিংবা পারফরম্যান্স নয়, ভারতীয় দলে আসার মাপকাঠি হল পছন্দ-অপছন্দ! এশিয়া কাপের দল নির্বাচনের পর এমন তত্ত্বই ভাসছে ক্রিকেট মহলে। শ্রেয়স আয়ারের অনুপস্থিতিতেই তা প্রতিফলিত। কোচ গৌতম গম্ভীরের গুডবুকে নেই মুম্বইকর। আর তাই ইংল্যান্ডে পাঁচ টেস্টের সিরিজের পর এশিয়াসেরা হওয়ার লড়াইয়েও তাঁকে বাদ দিয়ে গড়া হল দল। কারও কারও পছন্দের তালিকায় থাকাটাই যেন গুরুত্বপূর্ণ!
নির্বাচকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান অজিত আগরকর অবশ্য মিনমিনে গলায় যুক্তি সাজানোর চেষ্টা করেছেন। বলেছেন, ‘কার জায়গায় দলে আসত শ্রেয়স? জায়গা না পাওয়ার দায় ওর নয়। এটা আমাদেরও গলদ নয়। এই মুহূর্তে ১৫ জনের দলই ঘোষণা করা হচ্ছে, তার বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই।’ আগরকরের কথা ছেলে ভোলানো ছড়ার মতোই হাস্যকর। নইলে স্ট্যান্ড-বাই তালিকায় থাকতেন তিনি। কিন্তু সেখানেও ঠাঁই হয়নি।
কিছুদিন আগেও যিনি টিম ইন্ডিয়ার সহকারী কোচ ছিলেন, সেই অভিষেক নায়ার এই প্রশ্নটাই তুলেছেন। স্টার স্পোর্টসে তাঁর মন্তব্য, ‘যদি শ্রেয়সের দলে আসার দাবি জোরালো হয়, তাহলে স্ট্যান্ড-বাই তালিকায় ও নেই কেন? দেশের সেরা কুড়ি জনের মধ্যে ও নেই, এটা ভাবতেই পারছি না। সত্যি, নির্বাচনী বৈঠক কখনও কখনও বেশ মজার ব্যাপার-স্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তবে শ্রেয়সের ক্ষেত্রে গোটাটাই দুর্ভাগ্যজনক। ওকে বোঝানো হল যে দেশের সেরা কুড়িজনেও তুমি নেই!’
প্রাক্তন অলরাউন্ডার ইরফান পাঠানও স্তম্ভিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পোস্ট, ‘শ্রেয়সের যে স্কোয়াডে থাকা উচিত ছিল তা নিয়ে কোনও দ্বিধা নেই। উল্টে আমার মনে হয়, লিডারশিপ গ্রুপেও ওর থাকা উচিত। এই মুহূর্তে অবশ্য ধৈর্য ধরা ছাড়া কোনও উপায় নেই ওর কাছে।’
৩০ বছর বয়সি শেষবার কুড়ি ওভারের ফরম্যাটে দেশের জার্সি গায়ে চাপান ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে হাফ-সেঞ্চুরি করেন তিনি। তারপর থেকে এই ঘরানায় ব্রাত্য হয়েই রয়েছেন। গতবছর টি-২০ বিশ্বকাপের দলেও ছিলেন না তিনি। অথচ, আইপিএলে গত বছর তাঁর নেতৃত্বেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। তারজন্য প্রাপ্য কৃতিত্ব মেলেনি বলেই সোচ্চার হয়েছিলেন ডান হাতি। কে জানে, সেই মন্তব্যই শ্রেয়স সম্পর্কে গম্ভীরের বিদ্বেষের কারণ কিনা!
এবছর পাঞ্জাব কিংসের ফাইনালে ওঠার নেপথ্যেও বড় ভূমিকা ছিল শ্রেয়সের। আমিরশাহির মন্থর উইকেটে তাঁকে প্রয়োজন বলেও মনে করা হচ্ছিল। বিশেষ করে স্পিনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সাবলীল তিনি। অভিষেক সেজন্যই বলেছেন, ‘আমার ধারণা, শ্রেয়সকে পছন্দ করা হয় না। সেজন্যই ও বাদ।’ কিন্তু, কোচ বড়জোর মতামত দিতে পারেন। তাঁর ভোটাধিকার নেই। দল বাছার কাজটা নির্বাচকদেরই। সাধে মহিন্দার অমরনাথ সিলেক্টরদের ‘বাঞ্চ অব জোকার্স’ বলেছিলেন!