


নয়াদিল্লি: একদিকে চরম দারিদ্র দূরীকরণের পথে নয়া মাইলফলক। অন্যদিকে, মজুরির ক্ষেত্রে আর্থিক বৈষম্যের ফারাক বৃদ্ধি। ভারতীয় অর্থনীতি নিয়ে এমনই রিপোর্ট দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। তাদের রিপোর্ট বলছে, ২০১১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতে চরম গরিবির নাগপাশ থেকে মুক্তি পেয়েছেন আনুমানিক ৪৯ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ। ভারতে কারা চরম গরিব। বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী দিনে সর্বোচ্চ ৩ ডলার যাঁরা রোজগার করেন, তাঁরা চরম দারিদ্র। এই ১২ বছরে জনসংখ্যার নিরিখে দেশে চরম দারিদ্রে দিন কাটানো নাগরিকের সংখ্যা ২৭.১ শতাংশ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে হয়েছে মাত্র ২.৬ শতাংশ। অর্থাৎ, এখন সর্বোচ্চ ৩ ডলার রোজগার করছেন ২.৬ শতাশ মানুষ। ২০২৬ সালের অক্টোবরে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত রিপোর্টে এই দাবি করা হয়েছে। ভারতের প্রশংসা করে বলা হয়েছে, গোটা বিশ্বে দ্রুততম দারিদ্র দূরীকরণের অন্যতম সেরা নির্দশন এটি। কিন্তু, এই সাফল্যের নেপথ্যের কারণ ঠিক কী? বিশ্বব্যাংকের ব্যাখ্যা, মূলত ব্যাপক হারে চাহিদা বৃদ্ধি, খাদ্যে ভরতুকির মতো সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির পরিধি বিস্তার এবং বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মহিলাদের বড়ো অংশ বেতন নির্ভর কাজের আওতায় আসায় দারিদ্র দূরীকরণের পথে ভারতের এই উল্লেখযোগ্য সাফল্য। তবে, ‘পভার্টি অ্যান্ড ইকুইটি ব্রিফ’ শীর্ষক এই রিপোর্টে অঞ্চল ভিত্তিক ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত একঝাঁক চ্যালেঞ্জেরও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভারতের দরিদ্র জনতার প্রায় ৫৭ শতাংশেরই বসবাস উত্তরপ্রদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে। তাই গরিব মানুষের সংখ্যা আরও কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এই অঞ্চলের রাজ্যগুলিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। রিপোর্টে আরও দাবি, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতে যুব সমাজের বেকারত্বের হার ১৪.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৫.৯ শতাংশ। বিশেষ করে বেকারত্ব বেড়েছে গ্রামীণ তরুণীদের ক্ষেত্রে। উপার্জনের পরিমাণ বৃদ্ধি না পেয়ে তা থমকে আছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমাবদ্ধ হয়ে রয়েছে অপেক্ষাকৃত নিম্ন-উৎপাদনমূলক কর্মকাণ্ডের গণ্ডিতে।
বিশ্বব্যাংকের এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ক্রয়ক্ষমতা সমতা (পিপিপি) অনুযায়ী দৈনিক ৪.২০ মার্কিন ডলারের আয়ের নীচে বসবাসকারী মানুষ অর্থাৎ মাঝারি দরিদ্র মানুষের সংখ্যাও এই সময়কালে ৫৭.৭ শতাংশ থেকে কমে ১৬.১ শতাংশে নেমে এসেছে। দারিদ্র সংক্রান্ত অর্থনৈতিক ও অর্থনৈতিক-বহির্ভূত মানদণ্ড— জোড়া মাপকাঠিতেই উন্নতি করেছে ভারত। ভবিষ্যতে ভারতের গরিবি আরও নিম্নমুখী হবে, তবে তার গতি কিছুটা শ্লথ হতে পারে। তবে রিপোর্টে আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দিক আছে। সেখানে বলা হয়েছে, গিনি সূচকে ভারতের স্থান ২৩। অর্থাৎ আর্থিক সমতার নিরিখে ভারত মোটামুটি ভালো জায়গায়। এই সূচক ০ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকে। সূচক যত কম, সমতা তত বেশি। কিন্তু ভারতের গিনি সূচক ২৩ হলেও রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের প্রথম ১০ শতাংশ মজুরি প্রাপকরা একেবারে তলানিতে থাকা ১০ শতাংশের চেয়ে ১৩ গুণ বেশি আয় করেন। তবে এর মানে এই নয় যে শীর্ষে থাকা ১০ শতাংশের প্রত্যেকেই নীচে থাকা ১০ শতাংশের চেয়ে ১৩ গুণই বেশি আয় করেন। এটি গড়।