


নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: ভোটের ময়দানে সাফল্য এসেছে। কিন্তু সেই সাফল্য থেকে ক্ষমতার আস্বাদ। আর তাতেই ক্রমে তেতে উঠেছে ঘরের অন্দরমহল। জেলা সভাপতির চেয়ারে কে বসবেন? তা নিয়ে ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র মন কষাকষি। দলের কর্মীদের একাংশের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে উঠে আসছে ‘লবিবাজি’ ও ‘সেটিংবাজি’ থেকে মুক্ত নতুন মুখের দাবি। তাঁদের বক্তব্য, এমন একজন শিক্ষিত ও গ্রহণযোগ্য মুখকে সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করা হোক, যিনি সমস্ত গোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে চলতে পারবেন এবং পুরনো-নতুন সকল কার্যকর্তাকে সমানভাবে রাজনৈতিক পরিসর দেবেন।সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি কর্মীদের একাংশের এমনই বার্তা ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা। একটি পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘বিজেপি ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার করুণ পরিস্থিতি। একেবারেই নতুন মুখ জেলা সভাপতি হিসেবে আনলে সবাইকে নিয়ে চলতে পারবেন, সকলে রাজনীতি করার সুযোগ পাবেন।’ আর এই ধরনের পোস্ট ঘিরেই দলের সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে অস্বস্তি আরও প্রকাশ্যে এসেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের দাবি, ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে থেকেই পশ্চিম মেদিনীপুরে ধীরে ধীরে নিজেদের জমি শক্ত করতে শুরু করেছিল বিজেপি। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তার প্রতিফলনও দেখা যায়। এরপর ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠন আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চলে। কিন্তু প্রত্যাশিত ফল না মেলায় ক্রমশই ধাক্কা খায় গেরুয়া শিবির। পুরসভা থেকে লোকসভা—পরবর্তী একাধিক নির্বাচনেও ব্যর্থ হয় গেরুয়া নেতারা।
এই দীর্ঘ সময়ে মেদিনীপুর ও ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদে একাধিক মুখ বদলেছে। কিন্তু নেতৃত্বের একাংশের মতে, তাতে সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটেনি। যদিও এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ঘাটাল সাংগঠনিক জেলায় কেশপুর বাদে অধিকাংশ আসনে বিজেপির ভালো ফল দলের কর্মীদের মধ্যে নতুন আশা তৈরি করেছে। দলের বর্তমান জেলা সভাপতি তন্ময় দাসের কৃতিত্বের কথাও দলের নেতৃত্বের একাংশ স্বীকার করছে।
তারপরেও কেন বদলের দাবি? বিজেপির এক নেতার কথায়, বিধানসভা ভোটের পর থেকে সবাই বিজেপি হয়ে গিয়েছেন। জেলা সভাপতির একটি পদে বসার জন্য ১০ জনেরও বেশি দাবিদার রয়েছেন। এক গোষ্ঠীর নেতা-কর্মীরা অন্য গোষ্ঠীর লোকজনকে যথেষ্ট সম্মান দিচ্ছেন না। কেশপুরের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন প্রান্তেও গোষ্ঠীকোন্দল বাড়ছে। কেউ কাজ করতে গেলেই, তাঁকে পিছন থেকে ২০ জন টেনে ধরছে। যদিও ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি তন্ময় দাস বলেন, আমাদের দল ফেসবুকের উপর ভিত্তি করে চলে না। ফেসবুকে মানুষ তাঁর মনের কথা লিখতেই পারেন। দলের রাজ্য কমিটি ও কেন্দ্রীয় কমিটি রয়েছে। তারাই সিদ্ধান্ত নেবে। বিধানসভা নির্বাচনের সাফল্যের পর সংগঠনকে আরও মজবুত করতে বিজেপি শেষ পর্যন্ত নতুন মুখে ভরসা রাখে কি না, নাকি বর্তমান নেতৃত্বের উপরই আস্থা রাখে—সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।