


সাগর রজক, মানিকচক: মানিকচকের এনায়েতপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় তখন হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক। দলনেত্র্রীর বক্তৃতার মাঝে বললেন, আপনাদের মধ্যে কাদের নাম বাদ গিয়েছে? হাত তুললেন অর্ধেকেরও বেশি। যা দেখে মমতা বললেন, এই ছবিটা তুলে রাখো। মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ করছি। বাংলার মানুষ প্রস্তুত।
এরপরেই প্রচার ও সভা ছেড়ে ট্রাইবুনালে আবেদন করতে যথাসম্ভব সাহায্য করতে নির্দেশ দিলেন নেতৃত্বকে। প্রয়োজনে দলীয় কার্যালয়ে শিবির করার কথা বলে গিয়েছেন তিনি।
শুরু থেকেই এসআইআর নিয়ে আতঙ্কিত ছিলেন ভোটারেরা। এমনকি ঘটেছে আতঙ্কে আত্মহত্যা-মৃত্যুর ঘটনাও। তার মধ্যে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা বের হতেই দেখা যায় বেশিরভাগ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথে বাদ গিয়েছে বেশি নাম। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী এসে কী বার্তা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে ছিলেন বাদ যাওয়া ভোটাররা। সভায় ছিলেন নাম ডিলিট হয়ে যাওয়া মথুরাপুরের সুমি বিবি, এনায়েতপুরের শেখ নিজামুদ্দিন ও শেখ মান্নানরা। তাঁদের হয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী।
মানিকচকের তৃণমূল প্রার্থী কবিতা মণ্ডলের সমর্থনে এনায়েতপুরে জনসভায় বাদ যাওয়া ভোটারদের নির্ভয়ে থাকার পরামর্শ দিয়ে গেলেন মমতা। ছবিটা ভালো করে তুলে রাখার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই কোনো ধরনের চক্রান্তে পা না দিয়ে ট্রাইবুনালে আবেদনের পরামর্শ দিয়েছেন। আবেদন করতে যাতে সবরকম সাহায্য করা হয়, তার নির্দেশও দেন মানিকচক ব্লক তৃণমূল নেতৃত্বকে। বলেন, শুধু প্রচার ও সভা করলে হবে না, এটাও অনেক বড় কাজ। মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। দিল্লিতে থাকা বিজেপির বাবুরা দেখে দেখে সংখ্যালঘুদের বাদ দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে মালদহ ও মুর্শিদাবাদে সংখ্যালঘুদের বাদ দেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা পেয়ে অনেকটাই নির্ভয়ে বাড়ি ফিরে যান মানিকচকের বাদ যাওয়া ভোটারেরা। শেখ নইমুদ্দিন বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আমাদের আগেও পথ দেখিয়েছেন, এবারও তিনি বিপদ থেকে উদ্ধার করবেন। তিনি সবসময় আমাদের পাশেই রয়েছেন। আমরা ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।