


শ্রীকান্ত পড়্যা, মহিষাদল: ‘ভোটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রভাব পড়বে। আমাদের অন্নপূর্ণা স্কিম নিয়ে মহিলারা সেভাবে সাড়া দিচ্ছেন না।’ সোমবার ভরদুপুরে মহিষাদলে নির্বাচনী কার্যালয়ে বসে রাজ্যের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও বিজেপির প্রস্তাবিত অন্নপূর্ণা স্কিম নিয়ে এভাবেই অকপটে বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন বিজেপির ভোট ম্যানেজার তপন বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাক্তন জেলা বিজেপি সভাপতি তপনবাবু মহিষাদল বিধানসভার নির্বাচনী কার্যালয়ে গুরুদায়িত্ব পালন করছেন। ওই বিধানসভার দুই কনভেনর প্রসেনজিৎ সামন্ত এবং রামকৃষ্ণ দাস অভিজ্ঞ তপনবাবুর কাছ থেকেই পরামর্শ নিচ্ছেন। মহিষাদল সিনেমা হলের কাছে পার্টি অফিসে নির্বাচনী কার্যালয় খুলেছে বিজেপি। সেখানে বসে গোটা বিধানসভার নির্বাচনি প্রচার দেখভাল করছেন তপনবাবু। বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা জনসংযোগের রিপোর্টের ভিত্তিতে সোমবার তপনবাবু বলেন, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বিকল্প হিসেবে অন্নপূর্ণা নিয়ে বোঝাতে সমস্যা হচ্ছে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।’
মহিষাদল বিধানসভায় তৃণমূল প্রার্থী হয়েছেন বিদায়ী বিধায়ক তিলক চক্রবর্তী। বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন সুভাষ পাঁজা। রাজনীতির ময়দানে নতুন মুখ সুভাষবাবু। তাঁকে সহযোগিতা করতে বিধানসভার নির্বাচনী কমিটির পাশাপাশি বুথভিত্তিক টিম গড়েছে বিজেপি। ওই বিধানসভায় মোট বুথ সংখ্যা ২৬৯টি। তারমধ্যে মহিষাদলের ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েতে ১৮৭টি এবং হলদিয়া ব্লকের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েতে আরও ৮২টি বুথ আছে। প্রত্যেক বুথে বিজেপি ১২জনের টিম গড়েছে। সেই তালিকায় বুথ সভাপতি, বিএলএ-২, বুথ সম্পাদক এবং মহিলা কর্মীদের রাখা হয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাল্টা অন্নপূর্ণা নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের বোঝাতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছেন বিজেপির ওই টিম।
মহিষাদল থানা সংলগ্ন অজয় সামন্তের স্ত্রী সবিতা সামন্ত পরিচারিকার কাজ করেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দেড় হাজার টাকা তাঁর কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সবিতাদেবী বলেন, ‘আমার স্বামী দু’টো বিয়ে করেছে। আমি একা থাকি। অন্যের বাড়িতে কাজ করি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দেড় হাজার টাকা আমার কাছে অমূল্য। অন্নপূর্ণা নিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে তা পাওয়া যাবে কি না আদৌ জানি না। বাড় অমৃতবেড়িয়ায় শ্যামলী মণ্ডল বলেন, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মানে প্রতি মাসে নিশ্চিত দেড় হাজার টাকা। ছেলের টিউশন খরচের পাশাপাশি সংসারের বিভিন্ন কাজে লাগে। অন্নপূর্ণা স্কিম ফাঁকা আওয়াজও হতে পারে। তাই ভরসা রাখতে পারছি না।’
ভোট প্রচারে বেরিয়ে তৃণমূল প্রার্থী পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ছেন। মহিষাদলে বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগ নেই। অনেক পরিবার দূর দূরান্ত থেকে নলকূপের জল সংগ্রহ করেন। অনেকেই বাড়ি বাড়ি সংযোগ পাওয়ার আবেদন করেও পাচ্ছেন না। ভোট প্রচারে এই জলসংকট ঘুরে ফিরে আসছে। রঙ্গীবসানের শঙ্করী বেতাল, আজড়া গ্রামের বাসিন্দা তথা সিনেমা মোড়ের টোটো চালক শেখ আলাউদ্দিন বলেন, গরম পড়তেই জলসংকট বেড়েছে। আলাউদ্দিন বলেন, আমাদের গ্রামে নলকূপ বসানোর জন্য ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ স্কিমে প্রস্তাব জমা পড়েছিল। এখনও নলকূপ বসল না।
এদিন দুপুরে মহিষাদলে ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসেই ভোটের রণকৌশল নিয়ে মিটিং করছিলেন তৃণমূল প্রার্থী তিলক চক্রবর্তী। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে অনেক রাস্তা, স্ট্রিট লাইটের কাজ হয়েছে। পানীয় জলের সমস্যা সেই অর্থে নেই। কিন্তু, অনেকেই পানীয় জলেই স্নান থেকে কাপড়কাচা, বাসন মাজা সব করতে চাইছেন। বিজেপি নেতারা আমাকে সাইকেল মিস্ত্রি বলে ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন। আমার বাবা একজন শিক্ষক ছিলেন। ঠাকুর্দা রাজ পরিবারে কাজ করতেন। সেই পরিবারের সন্তান আমি। মহিষাদলবাসী এর উপযুক্ত জবাব দেওয়ার জন্য তৈরি আছেন।