


অনিমেষ মণ্ডল, কাটোয়া: মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে ঘর-সংসার ফেলে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে মহিলাদের। সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। কাটোয়ায় ট্রাইবুনালের লাইনে দাঁড়িয়ে ক্ষোভের সঙ্গে তাঁরা বলছেন, ‘বাপের জন্মে এমন মানসিক যন্ত্রণার শিকার হইনি।’
কেউ লাইন দিয়েছেন রাত ২টো থেকে। আবার কেউ ভোর ৫টা থেকে লাইন দিয়েছেন। কাটোয়ার মহকুমা শাসকের অফিস চত্বরে প্রায় এক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চরম মানসিক যন্ত্রণার শিকার হতে হয়েছে বহু মহিলাকে। কয়েকদিন ধরেই তাঁরা এসে ট্রাইবুনালের ফর্ম জমা দিচ্ছেন। নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের ভিড়ে শহর কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ছে। আবেদনপত্র জমা দিতে কয়েকদিন ধরে কাতারে কাতারে মানুষ আসছেন। কেউ লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ানোর কষ্ট সহ্য করতে না পেরে রাস্তাতেই বসে পড়ছেন আবার কেউ হাঁটুর ব্যথা উপেক্ষা করেও দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
মঙ্গলকোটের দেউলিয়া গ্রামের বাসিন্দা লাইলি বিবি বলেন, রাত ২টো থেকে লাইন দিতে হয়েছে। এরকম দুর্ভোগ আর মানসিক যন্ত্রণা জীবনে কখনো পাইনি। আমার স্বামী রাইহান মণ্ডলের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। স্বামী চেন্নাইতে রাজমিস্ত্রির কাজ করে। তাই আমাকে দুটো ছোটো ছেলেকে বাড়িতে রেখে আসতে হয়েছে। বিজেপির জন্যই এমনটা হচ্ছে। সেলিনা বিবি বলেন, চার দেওরের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। চিন্তায় বাড়িতে ভাতের হাঁড়ি চড়ছে না। ট্রাইবুনালের জন্য আবেদনপত্র জমা দিতে এসে দীর্ঘ এক কিলোমিটার লাইন দিতে হবে ভাবিনি। চক্রান্ত করে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর জবাব আমরা ভোটের বাক্সতেই দেব। হাটমুড় গ্রামের বধূ ঝর্ণা বিবি বলছেন, কোনোদিন এভাবে লাইনে দাঁড়াতে হয়নি। নিজেদের খুব অসহায় লাগছে। কেন আমাদের নাম বাদ দিল? আমরা বহু বছর ধরে ভোট দিচ্ছি। কমিশন বিজেপির কথায় এসব করছে।
কাটোয়া শহরের কাছারি রোড ব্যস্ততম রাস্তা। এই রাস্তা ধরেই আদালত থেকে সরকারি অফিস, হাসপাতাল যান সকলে। মানুষের ভিড় সামলাতে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কাটোয়ার মহকুমা শাসক অনির্বাণ বসু বলেন, আমরা ১০টি টেবিলে ট্রাইবুনালের জন্য আবেদনপত্র জমা নিচ্ছি। মঙ্গলকোটের ঠেঙাপাড়ার বাসিন্দা পাতু বিবি বলছেন, জীবনে আর বেশিদিন হয়তো বাঁচব না। হাঁটুর যন্ত্রণায় ভুগছি। তবুও দীর্ঘ লাইনে আমাদের দাঁড় করাল বিজেপি সরকার। বাঙালিকে কেন এত অপমান? আমরা ভারতেই জন্ম নিয়েছি। শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। সেখানে আমরা সব নথি দেখিয়েছি। তবুও আমাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
সাবিনা বেগম, শেখ এনামুল হক বলছেন, কারও ছ’জন সন্তান থাকলে প্রত্যেককেই শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। সেখানে সব নথি দেখিয়েছিলাম। তারপর সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় পরিবারের কয়েকজনের নাম এসেছে। আবার কারও নাম বাদ চলে গিয়েছে। এআই দিয়ে কমিশন কাজ করেছে। সেখানে বাংলা উচ্চারণের সমস্যা তো হবেই। চরম হয়রানির শিকার হচ্ছি। ভোটার তালিকায় নাম নেই। ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হব। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের চক্রান্তে নির্বাচন কমিশন এমনটা করছে।
মঙ্গলকোটের তৃণমূল প্রার্থী অপূর্ব চৌধুরী বলেন, ভোটে বাংলার মানুষকে হয়রানির জবাব পাবে বিজেপি। কাটোয়ার বিজেপি নেতা অশোক রায় বলেন, এটা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। বিজেপির সঙ্গে কোনও যোগ নেই। মানুষ আমাদের সঙ্গেই আছে।