


সংবাদদাতা, কাটোয়া: সমাজ মাধ্যমে দেশ বিরোধী ও ভুয়ো খবর পোস্ট করা থেকে সমস্ত দেশবাসীকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সে সবের তোয়াক্কা না করে মুম্বইয়ে বসে পাকিস্তানের জয়গান গাইছিল দাঁইহাটের যুবক। ফেসবুকে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ থেকে শুরু করে নানা উস্কানিমূলক পোস্ট করছিল শরিফ শেখ। তার এই কাণ্ড কারখানায় শোরগোল পড়ে যায় দাঁইহাট শহরে। ক্ষিপ্ত বাসিন্দারা বৃহস্পতিবার রাতে দাঁইহাট পুলিস ফাঁড়ি ঘেরাও করে যুবকের গ্রেপ্তারি দাবি করে। পরে কাটোয়া থানার পুলিস মুম্বই পুলিসকে জানালে তারা গ্রেপ্তার করে শরিফ শেখকে। ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে আনতে কাটোয়া থানার পুলিস টিম পাড়ি দিয়েছে মুম্বই।
শরিফের বাড়ি দাঁইহাটের পাইকপাড়ায়। বর্তমানে সে মুম্বইয়ে জামাকাপড়ের ব্যবসা করে। পনেরো বছর বয়সেই বাবা হাসিবুল শেখের সঙ্গে কাজের সন্ধানে সে পাড়ি দিয়েছিল কেরলে। সেখানে সে রাজমিস্ত্রির কাজ করত। পাঁচ বছর আগে সে মুম্বইয়ে চলে আসে। মুম্বইয়ে জামাকাপড়ের ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে উঠেছে একুশ বছরের শরিফ। যুবকের সামাজিক মাধ্যমে একাধিক উস্কানিমূলক পোস্টও পুলিসের নজরে এসেছে। শরিফের বাবা সম্প্রতি কেরল থেকে দাঁইহাটে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে যখন দেশের মানুষ টিভির পর্দায় পাকিস্তানের ধ্বংসলীলা প্রত্যক্ষ করছেন, ভারতীয় সেনার জয়গান গাইছেন, ঠিক সেই সময় শরিফ ফেসবুকে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ লিখে রিলস বানায়। পাকিস্তানি সেনার গাড়ির ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করে। ওই পোস্ট নজরে আসতেই খেপে যান বাসিন্দারা। তাঁরা কাটোয়া থানায় শরিফের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
কাটোয়া থানার পুলিস লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরেই প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। তারপর দেশদ্রোহীতা, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য সহ একাধিক ধারায় এফআইআর করে মুম্বই পুলিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারপরেই মুম্বইয়ে গ্রেপ্তার হয় শরিফ।