


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ২০২৪ সালের নির্বাচন সুষ্ঠু এবং অবাধ হয়েছে তো? ভুয়ো ভোটার কার্ড, ক্লোনড আধার কার্ড ইস্যুর আবহে বৃহস্পতিবার সংসদে এই প্রশ্ন তুলে দিল কংগ্রেস। দিন কয়েক আগে ঠিক একই সওয়ালে সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের সাংসদ তথা দলের লোকসভার মুখ্য সচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতেই সুর মেলালেন কংগ্রেসের মণীশ তিওয়ারি।
বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, আধার কার্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন। বৈঠকের নির্যাস, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং সংশ্লিষ্ট আইন মেনে ভোটের সচিত্র পরিচয়পত্রের সঙ্গে ‘ঐচ্ছিক’ আধার সংযুক্তিকরণে নির্বাচন কমিশন নতুন করে উদ্যোগ নেবে। কিন্তু সংসদ চত্বরে প্রাক্তন তথ্যসম্প্রচারমন্ত্রী মণীশ তিওয়ারির প্রশ্ন, ‘সেই উদ্যোগের আগে কমিশন সাধারণ প্রশ্নের জবাব দিক। কী করে প্রায় রাতারাতি বেড়ে যাচ্ছে ভোটার?’ তিনি বলেন, ‘প্রথম ভোটার তালিকায় ভোটারের যা সংখ্যা আসছে, সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তার চেয়ে অনেক বেশি।’ মহারাষ্ট্রের লোকসভা আর বিধানসভা ভোটের মধ্যে সামান্য সময়ের ফারাকে বিপুল পরিমাণ ভোটার বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘ভোটার কার্ডের সঙ্গে আধার সংযুক্তিকরণ তো পরের কথা। আগে কমিশন এর জবাব দিক। এই যে অস্বাভাবিক বাড়তি ভোটার, তারা প্রকৃত ভোটার তো? যেসব ভোট হয়েছে, তা আদৌ সুষ্ঠু এবং অবাধ হয়েছে কি?’
ভুয়ো এপিক, ক্লোনড আধার নিয়ে সর্বপ্রথম সরব হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। সেই ইস্যুতে সংসদের উভয়কক্ষেই আলোচনা চেয়ে লাগাতার সরকারকে চাপ দিচ্ছে তৃণমূল। বৃহস্পতিবারও আলোচনা চেয়ে দেওয়া হয়েছিল নোটিস। কিন্তু অনুমতি মেলেনি। সংসদের অধিবেশন চলবে আর মাত্র ১২দিন। তাই ভুয়ো ভোটার এবং ক্লোনড আধার কার্ড ইস্যুতে আলোচনার দাবিতে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনকারের সঙ্গে কথা বলেছে বিরোধীরা। তৃণমূল মনে করছে, রাজ্যসভার কোনও না কোনও বিধি (রুল) বলে এপিক ইস্যুতে আলোচনা হতে পারে। না হলে সংসদের বাইরে সম্মিলিতভাবে ধর্না, বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছে বিরোধীরা। রাজ্যসভায় তৃণমূলের দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন স্পষ্টভাষায় বলেন, ‘কমিশনের সামান্য বিবৃতিতে আমরা সন্তুষ্ট নই। আদতে ক্লোনড তথা ভুয়ো আধার কার্ড ইস্যুতে সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, সেটাই বড় প্রশ্ন। আমরা চাই সংসদেই এ নিয়ে আলোচনা হোক। কেন্দ্র জবাব দিক। সরকার কেন আলোচনায় ভয় পাচ্ছে! কোনও ষড়যন্ত্র আড়াল করতে চাইছে ওরা?’ ছবি: পিটিআই