


সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প নিয়ে বিরোধী ও কেন্দ্রীয় সরকারের টানাপোড়েন দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। এই প্রকল্পে বাংলা সহ একাধিক বিরোধী শাসিত রাজ্যকে বকেয়া অর্থ দিচ্ছে না কেন্দ্র। তার মধ্যেই প্রকল্পের নাম ও কাঠামো বদলে ফেলেছে মোদি সরকার। মহাত্মা গান্ধী জাতীয় রোজগার গ্যারান্টির বদলে এখন নাম হয়েছে ভি জি রাম রোজগার গ্যারান্টি। কিন্তু বাজেটের পর ব্যয় বরাদ্দ সংক্রান্ত আলোচনার জবাবি ভাষণে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শুক্রবার জয়গান গাইলেন এই প্রকল্পেরই। বাতাসে যুদ্ধের আবহ। অর্থনীতি অনিশ্চিত। কর্মসংস্থানও অনিশ্চিত। আর তাই সর্বাগ্রে বেকারত্বের আঁচ যাতে গ্রামীণ ভারতের উপর এসে না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করার জন্য অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বললেন, এই প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। এই প্রকল্পের অর্থবরাদ্দ করা হয় না ইত্যাদি অভিযোগ বিরোধীরা করে থাকে। অথচ বাজেটে আমরা ৯৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি নতুন আইনে। আর পুরনো আইনেও অতিরিক্ত ৩০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া অর্থ মেটাতে দেওয়া হয়েছে। এদিন যখন অর্থমন্ত্রী লোকসভায় জবাবি ভাষণ দিচ্ছেন, তখন বিরোধীরা এলপিজির আকাল দিয়ে উত্তাল করেছে সভা। সেই বাধাদানে ক্ষুব্ধ অর্থমন্ত্রী বলেন, ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীরা সারাক্ষণ অপবাদ দেয়। আর আমি এখন যখন এলপিজি নিয়ে বলছি, রোজগার গ্যারান্টি নিয়ে বলছি, তখন তারা শুনতে চায় না। অর্থমমন্ত্রী বলেন, আমরা এই প্রকল্প বন্ধ করব না। এই প্রকল্পকে আরও কার্যকর করে তুলছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা ইকনমিক স্টেবিলাইজেশন ফান্ড প্রস্তাব করেছি। ৫৭ হাজার ৩৮১ কোটি টাকার এই তহবিল বিশ্বজোড়া কোনো সংকটে ব্যবহার করা যাবে। সামগ্রিক বরাদ্দ ১ লক্ষ কোটি টাকা হবে। বিশ্বজুড়ে যে অপ্রত্যাশিত ধাক্কা এসেছে, সেটি মোকাবিলা করা হবে এই টাকায়। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে এই সরকার বছরের মধ্যে আর কতবার অতিরিক্ত ব্যয় বরাদ্দ পাশ করাবে সংসদে? এটা কি বাজেট তৈরির ব্যর্থতাই নয়? অর্থমন্ত্রী বলেন, এই যুক্তি অসার। কারণ, উলটে এটাই প্রমাণ হয় যে, আমরা উন্নয়নের জন্য বাজেট বরাদ্দ নেই বলে বসে থাকি না। প্রকল্প সমাপ্ত করাই লক্ষ্য।