


দেরাদুন (পিটিআই): হড়পা বানে বিধ্বস্ত উত্তরকাশীতে উদ্ধারের কাজ তৃতীয় দিনে পড়ল। বৃহস্পতিবার সেনা সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত ২৭৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও নিখোঁজ ৬০ জন।
গতকাল দু’টি দেহ উদ্ধার হয়েছিল। যদিও সরকারিভাবে চারজনের মৃত্যুর কথা বলা হচ্ছে। এদিন জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় আটকে পড়া ৬৫ জনকে উদ্ধার করে আকাশপথে মাতলিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই জায়গাটি দেরাদুন শহর থেকে ৪৩২ কিলোমিটার দূরে। এর পাশাপাশি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ধারালি গ্রামে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারের কাজ চালানোর মতো আধুনিক সরঞ্জাম আকাশপথে নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড়ও শুরু হয়েছে। ধারালি ও সংলগ্ন হরসিলে দুর্গতদের ত্রাণের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে সেনাবাহিনী। জায়গায় জায়গায় ধস নেমে ও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গোটা অঞ্চলটাই যে বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি এখনও নিখোঁজ ৯ সেনাকর্মী। এই তালিকায় এক জুনিয়র কমিশনড অফিসারও রয়েছেন। গুরুতর জখম তিনজনকে হেলিকপ্টারে করে এইমস ঋষিকেশে ভর্তি করানো হয়েছে। অন্য আটজনকে ভর্তি করা হয়েছে উত্তরকাশী জেলা হাসপাতালে। হরসিলের সেনা হেলিপ্যাড ও নেলংয়ে আরও একটি হেলিপ্যাডকে কাজে লাগানো হচ্ছে। এখানের সঙ্গে গঙ্গোত্রীর সড়ক যোগাযোগ অটুট থাকায় পর্যটকদের সহজেই সরিয়ে আনা যাচ্ছে। তবে ধস নেমে অচল হয়ে পড়েছে ধারালির সিভিল হেলিপ্যাডটি। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধারের কাজে যুক্ত রয়েছেন ২২৫ জনের বেশি জওয়ান। এই টিমেই রয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার, মেডিক্যাল স্টাফ ও বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী। উদ্ধারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রশিক্ষিত কুকুরও। হেলিকপ্টারে করে ওই সারমেয়গুলিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া তেকলা গ্রামে কাজ করছে ওয়ান রিকো র্যাডার টিম। ত্রাণ ও উদ্ধারের কাজে সাহায্যের জন্য দেরাদুনের জলিগ্র্যান্ট বিমানবন্দরে প্রস্তুত রয়েছে চিনুক এবং এমআই-১৭ হেলিকপ্টার। এছাড়া উদ্ধারে কাজে সহস্ত্রধারা থেকে পাঁচটি সিভিল হেলিকপ্টার মাতলি, ভাটওয়ারি ও হরসিলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করছে। সমন্বয়ের কাজ করছে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ)।