


পাটনা: কারও বাড়ির নম্বর ‘০’। কারও ‘০০’। কারও আবার ‘০০০’! বিহারে ইন্টেনসিভ রিভিশনের পর নির্বাচন কমিশন যে খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে এমন ভোটারের তালিকা প্রায় ৩ লক্ষ! ‘০’ নম্বরের বাড়িই তাঁদের ঠিকানা। এখানেই শেষ নয়। ওই খসড়া তালিকাই বলছে, জামুই জেলায় চৌডিহা পঞ্চায়েতের আমিন গ্রামের ২৩০ জন বাসিন্দার ঠিকানা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৩ নম্বর বাড়ি! সবচেয়ে বড় কথা, ওই গ্রামবাসীদের বক্তব্য, রিভিশনের জন্য কোনও নির্বাচনী আধিকারিক নাকি তাঁদের এলাকায় গিয়েই পৌঁছননি। অর্থাৎ, স্রেফ মনগড়া তালিকা? তথ্য তাই বলছে। আর সেইসঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটছে বিতর্কের। এমনিতেই একধাক্কায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে দেশজুড়ে কম তোলপাড় পড়েনি। এত কম সময়ে তালিকা প্রকাশ করতে গিয়ে তাড়াহুড়ো করা হয়েছে বলেও সরব হয়েছে বিরোধীরা। তার উপর যত দিন যাচ্ছে, ততই সামনে আসছে এসআইআর নিয়ে একের পর এক অনিয়ম। নতুন সংযোজন ঠিকানা-বিভ্রাট!
বিহারের ২৪৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ২৩৫টি কেন্দ্রের ৮৭ হাজার ৮৯৮টি বুথের তথ্য ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, ২ লক্ষ ৯২ হাজার ৪৮ জন ভোটার ‘০’ নম্বরের ঠিকানায় বাস করেন। মগধ ও পাটনা অঞ্চলেই এমন ঠিকানার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। আটটি বিধানসভা কেন্দ্রের ২ হাজার ১৮৪টি বুথের তথ্য এখনও বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়নি। কেন? প্রথমে নির্বাচন কমিশন যে তালিকা প্রকাশ করেছিল, তা ছিল ‘মেশিন রিডেবল ফর্ম্যাট’। ফলে মেশিনের সাহায্যে সহজে তথ্য বিশ্লেষণ করা যাচ্ছিল। কিন্তু সম্প্রতি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী একই এপিক নম্বরে একাধিক ভোটারের অস্তিত্ব থাকার বিষয়টি তথ্য সহ দেখিয়ে দিয়েছেন এবং ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলেছেন। তারপরই ফর্ম্যাট বদলে ‘নন-মেশিন রিডেবল’ করে দিয়েছে কমিশন। এখন তথ্য পাওয়ার জন্য কোনও ব্যক্তিকে পুরো তালিকা খুঁটিয়ে দেখতে হবে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি কোটি কোটি ভোটারের বিপুল তালিকার আড়ালে কোনও ‘বিতর্কিত’ তথ্য লুকিয়ে রাখতে চাইছে কমিশন? এসআইআরের সময় বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও) সব নিয়ম আদৌ ঠিক মতো মেনেছিলেন তো?
জামুইয়ের আমিন গ্রামের বাসিন্দারা যে দাবি করেছেন, তাতে এই প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, বিএলওদের তাঁরা কোনওদিন গ্রামে আসতেই দেখেননি। বিএলও’র বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসআইআরের ফর্ম ফিল-আপের কথা থাকলেও, অফিসে বসেই যাবতীয় কাজ সেরেছেন তাঁরা। নুর হাসান নামে ওই গ্রামের এক বৃদ্ধা জানিয়েছেন, দুই বিএলও গ্রামবাসীদের সই ছাড়াই এসআইআরের ফর্ম-ফিল আপ করে জমা দিয়ে দিয়েছেন। নুরের অভিযোগ, বিএলওদের নির্বুদ্ধিতার জন্যই তাঁরা সকলে আজ একই বাড়ির বাসিন্দা। ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অন্য গ্রামবাসীরাও। মহম্মদ আলিজান নামে এক বাসিন্দা তাঁর মৃত স্ত্রীর নাম বাদ দেওয়ার কথা বললেও বিএলও তাতে কর্ণপাত করেননি। ফলে ওই মৃত মহিলার নামও খসড়া তালিকায় রয়ে গিয়েছে।
তালিকা প্রকাশ করতে গিয়ে ভুল যে হয়েছে, তা কার্যত মেনে নিয়েছে বিহারের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) কার্যালয়ও। বিহারের ডেপুটি সিইও অশোক প্রিয়দর্শীর দাবি, ফর্ম-ফিল আপের সময় অনেক ভোটার তাঁদের বাড়ির নম্বর দেননি। কিন্তু জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট সেই আবেদনও গ্রহণ করেছে। আর তার জন্যই বাড়ির নম্বর ‘০’ দেখাচ্ছে। তাঁরা এই ভুল শুধরে নেবেন বলেও দাবি করেছেন অশোক।