


ভোপাল: লালকেল্লার রাস্তায় বিস্ফোরণ এবং ফরিদাবাদ বিস্ফোরক উদ্ধার—উভয় ক্ষেত্রেই সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর হিসেবে নাম উঠে এসেছে আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান জাভেদ সিদ্দিকির ভাই এবার আর্থিক জালিয়াতি মামলায় গ্রেফতার! ধৃতের নাম হামুদ আহমেদ সিদ্দিকি। রবিবার হায়দরাবাদ থেকে তাকে পাকড়াও করে পুলিশ। সূত্রের খবর, ২৫ বছর আগে মধ্যপ্রদেশের মাউতে হওয়া আর্থিক জালিয়াতি কাণ্ডের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড হামুদ। বিষয়টি জানাজানি হতেই সে গা ঢাকা দেয়। হায়দরাবাদে শেয়ার ট্রেডিংয়ের কাজ করছিল। দু’দশক ধরে তল্লাশি চালানোর পর বর্তমানে আল ফালাহ নিয়ে হইচই শুরু হতেই অবশেষে জাভেদের ভাইয়ের নাগাল পেল পুলিশ। মাউর এসডিপিও ললিত সিং সিকারওয়ার বলেন, ‘এই জেলায় ভুয়ো বেসরকারি ব্যাংক তৈরি করেছিল হামুদ। আমানত দ্বিগুণ করার টোপ দিয়ে কয়েকশো বাসিন্দার সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০০০ সালে জালিয়াতির খবর প্রকাশ্যে আসতেই পরিবারের সঙ্গে পালিয়ে যায় হামুদ। কয়েক দশক ধরে তল্লাশি চলছিল।’
সোমবার আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান জাভেদকে দু’টি সমন পাঠিয়েছে দিল্লি পুলিশ। দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে নাম জড়িয়েছে ফরিদাবাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন চিকিৎসক পড়ুয়ার। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ডাঃ উমর উন নবি এখানে কর্মরত ছিল। উমর, মুজাম্মিলদের ঘর থেকেও মিলেছে একাধিক ডায়েরি, নোটবুক। তাতে ভর্তি সাংকেতিক শব্দ ও এনক্রিপটেড মেসেজ। সব মিলিয়ে মেডিকেল মডিউলের অন্যতম ঘাঁটি হয়ে উঠেছিল এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গত শনিবার সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করে ইউজিসি ও এনএএসি। তার ভিত্তিতেই প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা দায়ের হয়েছে। ‘হোয়াইট কলার’ জঙ্গি মডিউলের তদন্তে নেমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে বহু নথি চেয়েছেন তদন্তকারীরা। দিল্লি পুলিশের এক অফিসার জানান, জালিয়াতি সহ যাবতীয় তথ্য খতিয়ে দেখার জন্য জাভেদের বয়ান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাকে সমন পাঠানো হয়েছে।